অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে লোহার রড ঢোকাল স্বামী, মানবতাকে কলঙ্কিত করা অপরাধ ছত্তিশগড়ে

ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলায় আধুনিক সমাজ ও মানবতাকে কলঙ্কিত করে এক চরম পৈশাচিক ও গা শিউরে ওঠা অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। মদের ঘোরে এক বিকারগ্রস্ত স্বামী তার ২৩ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করার পর তার যৌনাঙ্গে লোহার রড ও ধাতু কাটার ব্লেড ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এই ভয়াবহ অপরাধের কথা সামনে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন তদন্তকারী ও চিকিৎসকেরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
৪ বছরের মেয়ের সামনেই চলল নারকীয় অত্যাচার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে সুরগুজা জেলার মণিপুর থানার অধীনস্থ ভিত্তিকালা গ্রামে। অভিযুক্ত প্রদীপ আগারিয়া ও নির্যাতিতা হীরাবাইয়ের বিয়ে হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই প্রদীপ ছিল চরম মদ্যপ এবং মদের প্রভাবে সে প্রায়শই তার স্ত্রীর ওপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালাত।
গত ১৪ই মে রাতেও দম্পতির মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। মদের ঘোরে নৃশংসতার সব সীমা অতিক্রম করে প্রদীপ তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করতে শুরু করে। এরপর একটি ধারালো ব্লেড ও লোহার রড নিয়ে সে স্ত্রীর ওপর পৈশাচিক হামলা চালায়। পুরো চরম নৃশংসতার ঘটনাটি ঘটে দম্পতির মাত্র চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানের চোখের সামনেই।
দুর্ঘটনার নাটক করে হাসপাতালে মৃতদেহ ফেলে চম্পট
অতিরিক্ত রক্তপাত ও যন্ত্রণার চোটে হীরাবাই জ্ঞান হারালে, অভিযুক্ত প্রদীপ আগারিয়া অপরাধ ঢাকতে এক ভয়ঙ্কর ফন্দি আঁটে। সে স্ত্রীর নিথর দেহটিকে একটি মোটরসাইকেলের সাথে বেঁধে কোনোমতে অম্বিকাপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের ডাক্তারদের বিভ্রান্ত করতে সে মিথ্যা দাবি করে যে, হীরাবাই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ওই তরুণীকে মৃত ঘোষণা করতেই বেগতিক বুঝে হাসপাতাল চত্বর থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত প্রদীপ।
ময়নাতদন্তে চিকিৎসকদের চোখ চড়কগাছ, বেরল ১০ ইঞ্চির লোহার রড
হাসপাতালে হীরাবাইয়ের বাপের বাড়ির লোকজন আসার পর মৃতদেহটির ময়নাতদন্ত করা হলে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের আসল সত্যটি সামনে আসে, যা শুনে চিকিৎসকেরাও হতবাক হয়ে যান।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ময়নাতদন্তকারী সার্জন ডাক্তার সান্তু বাগ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানিয়েছেন:
- ৩ মাসের গর্ভবতী: মৃত হীরাবাই তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
- শরীরে একাধিক ক্ষত: তাঁর সারা শরীরে কামড় ও মারধরের প্রায় ১৭টি গুরুতর বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
- যৌনাঙ্গে নৃশংসতা: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও পৈশাচিক বিষয় হলো, চিকিৎসকেরা ওই মৃতদেহের গোপনাঙ্গ থেকে প্রায় ১০ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার রড এবং ধাতু কাটার ব্লেড উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া রড ও ব্লেডটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
ঘটনার তদন্তে নেমে সুরগুজা জেলার পুলিশ প্রশাসন দ্রুততার সাথে অম্বিকাপুর এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত স্বামী প্রদীপ আগারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাট এবং নৃশংস অত্যাচারের একাধিক জামিন অযোগ্য ও কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশি জেরার মুখে নিজের এই পৈশাচিক অপরাধের কথা স্বীকার করেছে ঘাতক স্বামী। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।