অশ্লীল ভিডিও কলের ফাঁদ পেতে ‘যৌন চাঁদাবাজি’, মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ

সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার একটি আন্তর্জাতিক মানের সাইবার অপরাধ তথা ‘সেক্সটরশন’ (Sextortion) চক্রের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশ। সাধারণ মানুষকে অশ্লীল ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে, পরবর্তীতে সেই কল রেকর্ড করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজস্থান থেকে এই চক্রের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা এই সাফল্যের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
কী এই সেক্সটরশন ও কীভাবে পাতা হতো ফাঁদ?
পুলিশের পরিভাষায় ‘সেক্সটরশন’ হলো এমন একটি সাইবার অপরাধ, যেখানে কোনো ব্যক্তির অশ্লীল বা আপত্তিকর ভিডিও এডিট বা রেকর্ড করে, তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া অথবা যৌন হেনস্থার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি তথা প্রধান হোতা আরমান (২৩)-কে রাজস্থানের ডিগ জেলার লাডামকা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১ লক্ষ টাকার দাবি, ভয়ে পুলিশের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী
এই চক্রের পর্দাফাঁস হয় তখন, যখন একজন ভুক্তভোগী ব্যক্তি কেন্দ্র সরকারের ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল’-এ (National Cyber Crime Reporting Portal) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারী জানান:
- অশ্লীল কলের ফাঁদ: অচেনা নম্বর থেকে আসা একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁকে প্রথমে ফাঁদে ফেলা ও প্রলুব্ধ করা হয়।
- রেকর্ড করা ভিডিও দিয়ে হুমকি: কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওপার থেকে কলটি কেটে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি রেকর্ড করা ভিডিও পাঠায়, যার একপাশে ওই ভুক্তভোগী ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
- টাকা না দিলে সোশ্যালে ছড়ানোর ভয়: ভিডিওটি দেখানোর পর আরমান নামের ওই অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর কাছে সরাসরি ১ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি প্রথমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু একবার টাকা পাওয়ার পর অভিযুক্ত আরমান বারবার আরও টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করলে, নিরুপায় হয়ে ওই ব্যক্তি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত নজরদারিতে মেওয়াত যোগ
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৩ই মে দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে তদন্তে নামে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ আধিকারিকেরা যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পাঠানো হয়েছিল, তার উৎস ও গতিবিধি (Money Trail) বিশ্লেষণ শুরু করেন।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে যে, এই অপরাধের সূত্রটি রাজস্থানের কুখ্যাত সাইবার অপরাধের হাব হিসেবে পরিচিত ‘মেওয়াত’ অঞ্চলের দিকে নির্দেশ করছে। এরপর দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল রাজস্থানের ডিগ জেলায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আরমানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রের সাথে আর কার কার যোগ রয়েছে এবং তারা এ পর্যন্ত কতজনের থেকে এভাবে টাকা হাতিয়েছে, তা জানতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।