একুশের হিংসার বদলা? পুরনো ফাইল খুলে ‘অ্যাকশন’ মুডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

একুশের হিংসার বদলা? পুরনো ফাইল খুলে ‘অ্যাকশন’ মুডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলো নিয়ে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর যে অকথ্য অত্যাচার, খুন এবং ঘরছাড়ার অভিযোগ উঠেছিল, ক্ষমতায় এসেই তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পুরনো ফাইলগুলো নতুন করে খোলায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন।

শতাধিক নয়া এফআইআর ও তদন্তের নির্দেশ

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রশাসনের সময় ধামাচাপা পড়ে থাকা কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলাগুলোকে পুনরায় সচল করতে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ৪৫৮টি ক্ষেত্রে নতুন করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে দায়ের করা হয়েছে ১৮১টি নতুন এফআইআর (FIR)। এর পাশাপাশি তৎকালীন পরিস্থিতিতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলার ফাইল পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন, যাতে ভুক্তভোগী কর্মীরা সঠিক বিচার পান।

রাজনৈতিক মহলে প্রভাব ও পাল্টা চাপ

বিজেপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছিল যে, একুশের নির্বাচনের পর তাদের ৩০০-এর বেশি কর্মীকে খুন করা হয়েছিল এবং হাজার হাজার সমর্থক ঘরছাড়া হয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই সাম্প্রতিক অ্যাকশনকে সেই সময়কার প্রতিশ্রুতি পূরণ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। তবে এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসও এই তদন্ত প্রক্রিয়ার পাল্টা সমালোচনা করে ২০২৬ সালের পরবর্তী সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

এক ঝলকে

  • ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার তদন্তে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে শুভেন্দু সরকার।
  • মোট ৪৫৮টি ক্ষেত্রে নতুন করে তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি ১৮১টি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
  • পূর্ববর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫৯টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ফাইল পুনরায় খোলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
  • পূর্বতন শাসকদলের হিংসার শিকার হওয়া বিরোধী কর্মীদের দ্রুত ন্যায়বিচার দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *