অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় জালিয়াতি চক্র! আসল ওয়েবসাইট কোনটা? জেনে নিন পুলিশের সতর্কবার্তা

রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য সরকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা করতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীরা। আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশিকা বা অফিশিয়াল পোর্টাল চালু না হলেও, ইন্টারনেটে এই প্রকল্পের নামে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে। ইতিপূর্বেই পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মহিলার এই সমস্ত ভুয়ো সাইটের চক্করে পড়ে প্রতারিত হওয়ার খবর সামনে এসেছে।
প্রতারণার কৌশল ও পুলিশের সতর্কতা
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিভিন্ন ভুয়ো লিঙ্কের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। গুগলে সার্চ করলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত একাধিক অননুমোদিত ওয়েবসাইট চলে আসছে, যেখানে ফর্ম পূরণের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সরকার এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য কোনো অনলাইন ফর্ম বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট প্রকাশ করেনি। তাই কোনো অপরিচিত সাইটে ওটিপি (OTP) বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ শেয়ার না করার জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সুরক্ষার উপায়
এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) পাবেন এবং বর্তমানে যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন প্রকল্পের আওতায় চলে আসতে পারেন। যেহেতু এটি একটি বড় আর্থিক সুবিধার প্রকল্প, তাই এটিকে হাতিয়ার করে সাধারণ ও অসচেতন মহিলাদের প্রতারিত করার চেষ্টা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোনোভাবে সাইবার প্রতারণার শিকার হলে তৎক্ষণাৎ কেন্দ্রীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ যোগাযোগ করে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে।
এক ঝলকে
- অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম করে ইন্টারনেটে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি হয়েছে।
- সরকারিভাবে এখনও কোনো অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি।
- পূর্ব বর্ধমান সহ বিভিন্ন এলাকায় ভুয়ো লিঙ্কে তথ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মহিলা সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।
- সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচতে অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক বা ব্যাঙ্ক ডিটেলস শেয়ার না করার এবং প্রয়োজনে ১৯৩০ নম্বরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।