“জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম”— ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

“জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম”— ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্তে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কঠোর ইউএপিএ (UAPA) আইনের আওতাধীন মামলাতেও ‘জামিন একটি নিয়ম এবং জেল একটি ব্যতিক্রম’—এই সাংবিধানিক নীতিটি সমানভাবে প্রযোজ্য। জম্মু-কাশ্মীরের নার্কো-সন্ত্রাসবাদের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সৈয়দ ইফতিখার আন্দ্রাবিকে জামিন দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞার বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে। এর আগে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট মোবাইল ফোনের রেকর্ডের সূত্র ধরে আন্দ্রাবির জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল, যাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আইনি কঠোরতার ভারসাম্য

শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানায় যে, ইউএপিএ আইনের ৪৩ডি(৫) ধারায় জামিনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও তা কোনো নাগরিককে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে আটকে রাখাকে সমর্থন করতে পারে না। আদালতের মতে, এই ধারাটিকে অবশ্যই সংবিধানের ২১ এবং ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের অধীনে রেখে কার্যকর করতে হবে। আইনের শাসনে পরিচালিত যেকোনো সভ্য সমাজে কোনো ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ ভাবার নীতিটিই বিচারব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

সর্বোচ্চ আদালতের কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ২০২১ সালের ঐতিহাসিক ‘কে. এ. নাজিব’ মামলার সিদ্ধান্তটি একটি বাধ্যতামূলক আইন। দেশের কোনো নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো অধীনস্থ বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা বা হালকা করে দেখতে পারে না। ২০২০ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দ্বারা দায়ের করা এই মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের মামলায় আন্দ্রাবিকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিজের পাসপোর্ট জমা রাখা এবং প্রতি ১৫ দিনে একবার স্থানীয় থানায় হাজিরা দেওয়া। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে ইউএপিএ মামলার আসামিদের দীর্ঘকাল বিনা বিচারে আটকে রাখার প্রবণতা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • সুপ্রিম কোর্টের মতে, কঠোর ইউএপিএ আইনের মামলাতেও জামিন পাওয়া নাগরিকের অধিকার এবং জেল খাটানো একটি ব্যতিক্রমী বিষয়।
  • জম্মু-কাশ্মীরের বিতর্কিত নার্কো-সন্ত্রাসবাদ মামলার অভিযুক্ত সৈয়দ ইফতিখার আন্দ্রাবিকে জামিন দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
  • পাসপোর্ট জমা রাখা এবং প্রতি ১৫ দিনে একবার থানায় হাজিরা দেওয়ার শর্তে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
  • আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সংবিধানের ২১ ও ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে থাকা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারকে কোনো বিশেষ আইন খর্ব করতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *