মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং ফেরানোর দাবিতে নবান্নে তৎপরতা, স্বাস্থ্যভবনের প্রধান সচিবের সাথে বৈঠকে ৮ চিকিৎসক-বিধায়ক

মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং ফেরানোর দাবিতে নবান্নে তৎপরতা, স্বাস্থ্যভবনের প্রধান সচিবের সাথে বৈঠকে ৮ চিকিৎসক-বিধায়ক

মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র রেসিডেন্ট (SR) বা জুনিয়র চিকিৎসকদের পোস্টিং ও বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে দিতে এবার বড়সড় উদ্যোগ নিল নতুন সরকার। রাজ্যের প্রায় ৫ হাজার তরুণ চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ ও স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে আজ স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন বিজেপি ও সহযোগী শিবিরের আটজন চিকিৎসক-বিধায়ক।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের জমানায় মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার জেরে তরুণ ডাক্তারদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট (PG) ডিগ্রি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ছে এবং চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারী ডাক্তার ও বর্তমান শাসক দলের চিকিৎসক-প্রতিনিধিরা।

মেধার অবমাননা ও পিজি ডিগ্রি অকেজো হওয়ার অভিযোগ

বৈঠকে যাওয়ার আগে এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ তথা প্রখ্যাত চিকিৎসক ড. ইন্দ্রনীল খান এবং আরজি কর আন্দোলনের জেরে রাজ্যজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা ড. অনিকেত মাহাতরা এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ:

  • স্বজনপোষণের নীতি: বিগত জমানায় মেধাভিত্তিক স্বচ্ছ কাউন্সেলিং তুলে দিয়ে ‘পছন্দসই পোস্টিং’ ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে বদলি নীতি চালু করা হয়েছিল। এর ফলে যোগ্য ও মেধাবী চিকিৎসকেরা প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে থাকছেন, আর প্রভাবশালীদের কাছের লোকেরা শহরের নামী হাসপাতালে সুযোগ পাচ্ছেন।
  • ডিগ্রির অপচয়: সঠিক পরিকাঠামো ও উপযুক্ত বিভাগে পোস্টিং না পাওয়ার কারণে পিজি ডিগ্রিধারী স্পেশালিস্ট ডাক্তাররা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহার করতে পারছেন না, যা পরোক্ষভাবে তাঁদের উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিকে অকেজো করে দিচ্ছে।

স্বচ্ছ বদলি ও চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি

স্বাস্থ্যভবনের এই মেগা বৈঠকে চিকিৎসক-বিধায়কদের পক্ষ থেকে প্রধান সচিবের কাছে মূলত তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হবে বলে জানা গেছে:

১. মেধাভিত্তিক পোস্টিং: সিনিয়র রেসিডেন্টদের নিয়োগ ও প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মেধার ওপর ভিত্তি করে স্বচ্ছ কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া অবিলম্বে চালু করতে হবে।

২. স্বচ্ছ বদলি নীতি: রাজনৈতিক রং বা প্রভাব দেখে নয়, বরং চিকিৎসকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক বদলি নীতি (Transfer Policy) তৈরি করতে হবে।

৩. পরিকাঠামো উন্নয়ন: গ্রামীণ ও জেলা হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা এমনভাবে উন্নত করতে হবে যাতে স্পেশালিস্ট চিকিৎসকেরা সেখানে গিয়েও সঠিকভাবে পরিষেবা দিতে পারেন।

মেডিক্যাল কাউন্সেলিং ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে গত এক বছরে রাজ্যে কম তোলপাড় হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের চিকিৎসক-বিধায়কদের এই তৎপরতা রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনে এক বড়সড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *