‘এবার অভিষেকও হাজতবাস করবে!’ বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, প্রকাশ করলেন ৪ জনের ‘প্রপার্টি লিস্ট’

‘এবার অভিষেকও হাজতবাস করবে!’ বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, প্রকাশ করলেন ৪ জনের ‘প্রপার্টি লিস্ট’

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার বিদায়ী শাসকদলের প্রথম সারির নেতা ও হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের পর প্রথমবার এসে এক হাই-ভোল্টেজ ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ৪ জন প্রভাবশালী নেতার নাম ধরে তাঁদের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান জনসমক্ষে ফাঁস করে দেন তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যেভাবে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং ডি‌সি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস দুর্নীতির দায়ে শ্রীঘরে গিয়েছেন, ঠিক সেইভাবে আইন মেনেই বাকিদেরও দ্রুত হাজতবাস করাবে বিজেপি সরকার।

ক্যামাক স্ট্রিটের সভা থেকে শুভেন্দুর ফাঁস করা ৪ জনের সম্পত্তির খতিয়ান:

কলকাতা পৌরসংস্থার একের পর এক দুর্নীতির ফাইল খোলা হচ্ছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নবান্নে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা এই লুটেরাদের সম্পত্তির খোঁজ নেবে। শুভেন্দুর মুখে মূলত যে চারজনের নাম শোনা গিয়েছে, তাঁরা হলেন:

  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ভাইপো): লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে ১৪টি, নিজের নামে ৪টি এবং বাবার নামে আরও ৬টি— মোট ২৪টি বেআইনি সম্পত্তির হদিস মিলেছে।
  • রাজু নস্কর (বেলেঘাটা): স্ক্যানারে রয়েছে এঁর ১৮টি প্রপার্টি বা সম্পত্তি।
  • সোনা পাপ্পু (কসবা): জমি দখল চক্রে জড়িত এই ব্যক্তির ২৪টি সম্পত্তির হদিস মিলেছে।
  • ফয়েজ খান (জাভেদ খানের ছেলে): সবচেয়ে বিস্ফোরক দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এঁর নামে একাই ৯০টি সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন।

‘৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো কাজ করব না’, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে কড়া অবস্থান

ভবানীপুরের সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেও একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও আপসহীন সুর শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। ভবানীপুরের মোট ৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ‘বিধায়ক তথা ওয়ার্ড অফিস’ খোলার ঘোষণা করলেও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ বাদ রাখার কথা জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন:

“কেবলমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমি কোনো কাজ করব না। ওখানে কোনো ওয়ার্ড অফিসও খোলা হবে না। পরিষেবা দেব কি না, তা পরে ভেবে দেখব। গত ১৫ বছরে আপনারা বুঝতে পারেননি বিধায়ক কেমন হওয়া উচিত, কোনো পরিষেবা পাননি। এবার বুঝবেন, কারণ এবার আপনাদের নিজের ভাই বিধায়ক হয়েছে। আপনারা মমতার অহংকার ভেঙে দিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটি মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা এবং সেখান থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। এর আগে ৪ মে ফলপ্রকাশের দিনও তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে কোনো মুসলিম তাঁকে ভোট দেননি।

মমতা-ফিরহাদের নিজেদের বুথেই জয়ী বিজেপি, অনুপ্রবেশকারীদের আলটিমেটাম

নিজের জয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ভোটকেন্দ্র ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’-এর ৪টি বুথেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। এমনকি কলকাতার বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাসভবনের সামনের বুথ ‘চেতলা গার্লস’-এর সমস্ত বুথেও পদ্ম শিবির লিড পেয়েছে। ফিরহাদকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যিনি নিজের বুথেই জিততে পারেন না, তাঁকে বাংলার মানুষ টাটা বাই বাই করে দিয়েছে। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে উনি (তৃণমূল) ১৯ হাজার ভোট পেলেও চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুরা আমায় ১৫ হাজার ভোটের লিড দিয়েছে।” সভায় উপস্থিত মারওয়ারি, গুজরাটি, জৈন ও শিখ সমাজের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পরিষেবা সচল করার আশ্বাস দেন তিনি।

একই সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং পার্ক সার্কাসের ঘটনা নিয়ে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওপার বাংলায় নতুন সরকার আসার পর বাংলাদেশের জামাতের ‘চিড়বিড়ানি’ বা ছটফটানি অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু তিনি ভয় পাওয়ার বা দমে যাওয়ার পাত্র নন। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সাফ বার্তা, “দেশকে সুরক্ষিত রাখার কাজ ভারতীয় জনতা পার্টি করবে। যে পথে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে এসেছিল, এসআইআর-এর পর সসম্মানে সেই পথেই বাংলাদেশে ফিরে যান।” পাশাপাশি পার্ক সার্কাসে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে যাঁরা পাথর ছুড়েছিল, তাদের প্রত্যেককে চরম ফল ভুগতে হবে বলেও শেষলগ্নে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *