অভিষেকের বাড়িতে কলকাতা পুরসভার হানা, বিল্ডিং প্ল্যান চেয়ে ৪০১ ধারায় কড়া নোটিশ

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং কলকাতা পুরসভার (KMC) প্রশাসনিক রদবদলের পরেই এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি নিয়ে বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল প্রশাসন। হরিশ মুখার্জি রোড এবং কালীঘাট রোডে অবস্থিত অভিষেকের অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল দুটি বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান বা অনুমোদিত নকশা চেয়ে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁকে একটি কড়া নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা আইনের ৪০১ ধারা (Section 401 of KMC Act) মেনে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে পুর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিধি মেনে কি তৈরি হয়েছে জোড়া বাড়ি? জানতে চায় পুরসভা
পুরসভা সূত্রে খবর, ওই দুটি বহুতল বা বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে:
- বিল্ডিং প্ল্যান পেশ: বাড়ি দুটি তৈরির সময় পুরসভা থেকে যে আসল নকশা অনুমোদন করানো হয়েছিল, তা অবিলম্বে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কাছে জমা দিতে হবে।
- বেআইনি নির্মাণ বিতর্ক: অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বা আইন লঙ্ঘন করে ওই দুটি বাড়িতে বাড়তি কোনো অংশ নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। যদি কোনো বাড়তি অংশ তৈরি হয়েই থাকে, তবে তার জন্য পুরসভার আগাম অনুমতি (Sanction) নেওয়া হয়েছিল কি না— তার সপক্ষে বৈধ নথিপত্র দাবি করা হয়েছে।
পালাবদলের পর বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া পুর প্রশাসন
রাজ্যের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কলকাতা শহরসহ বিভিন্ন পুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যানের বিরুদ্ধে এক বড়সড় অভিযান শুরু হয়েছে। পুরসভার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দাবি— আইন সবার জন্যই সমান। কোনো সাধারণ নাগরিক হোক বা কোনো প্রভাবশালী সংসদ সদস্য, শহরের বুকে বেআইনিভাবে বা নকশা বহির্ভূতভাবে কোনো বহুতল তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে পুর আইনের ৪০১ ধারা অনুযায়ী কাজ বন্ধ বা ভেঙে ফেলার আইনি নোটিশ দেওয়াটাই দস্তুর।
যদিও এই নোটিশের পর তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও অফিশিয়ালি কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডায়মন্ড হারবারের পর এবার খোদ কলকাতার বুকে অভিষেকের বাড়ির ওপর পুরসভার এই আইনি কোপ ঘাসফুল শিবিরের জন্য এক বড়সড় অস্বস্তির কারণ হতে চলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই নোটিশের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি টিম কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।