ভেঙে দিল রাজ্য সরকার, তৃণমূলের চেয়ারম্যানদের সরিয়ে মাথায় বসলেন মহকুমা শাসকেরা

পাহাড়ের রাজনীতি এবং পুর প্রশাসনে এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পাহাড়ের তিন প্রধান পুরসভা— কার্সিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক পুরসভার বর্তমান প্রশাসক বোর্ড (Administrator Board) সম্পূর্ণ ভেঙে দিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। কিছুক্ষণ আগেই নবান্ন থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি ও অফিশিয়াল নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাহাড়ের এই তিন পুরসভার পূর্বতন রাজনৈতিক প্রশাসকদের দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি আমলা অর্থাৎ মহকুমা শাসকদের (SDO) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার।
মেয়াদ ফুরনোর পর চেয়ারম্যানদের বসিয়ে রাখার নীতি বাতিল
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, কার্সিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই তিন পুরসভারই নির্বাচিত বোর্ডের আইনি মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল সরকারের জমানায় নিয়মের তোয়াক্কা না করে ওই পুরসভাগুলির বিদায়ী চেয়ারম্যান ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতাদেরই ঘুরপথে ‘প্রশাসক বোর্ড’-এর মাথায় বসিয়ে রেখে পুরসভার কাজকর্ম চালানো হচ্ছিল। এর ফলে পাহাড়ের পুরসভাগুলিতে স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠছিল।
রাজ্যে নতুন সরকার এবং নতুন পুরমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এই রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসক বোর্ডগুলি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। আজ জারি হওয়া নির্দেশিকা মোতাবেক:
- কার্সিয়াং পুরসভা: বিদায়ী রাজনৈতিক বোর্ড ভেঙে কার্সিয়াংয়ের মহকুমা শাসককে প্রশাসক পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- কালিম্পং পুরসভা: কালিম্পংয়ের মহকুমা শাসক এখন থেকে পুরসভার সমস্ত প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন।
- মিরিক পুরসভা: মিরিকের মহকুমা শাসকের ওপর পুরসভার নতুন দায়িত্বভার ন্যস্ত করা হয়েছে।
পাহাড়ে স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ
রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ের পুরসভাগুলি থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল নয়ছয় করার যে ধারা তৈরি হয়েছিল, তা বন্ধ করতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই কড়া পদক্ষেপ নিল। এবার থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সরকারি আমলারা এই পুরসভাগুলির দৈনিক কাজকর্ম এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দেখভাল করবেন। যতদিন না পাহাড়ের এই পুরসভাগুলিতে নতুন করে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন এই মহকুমা শাসকেরাই পুর প্রধানের সমস্ত দায়িত্ব সামলাবেন। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।