এফআইআর খারিজের আবেদন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি মামলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

ভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) খারিজের দাবিতে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এই ফৌজদারি মামলা আইনিভাবে মোকাবিলা করতে আজ তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি। আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা অথবা সংশ্লিষ্ট অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
কী অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে?
গত শুক্রবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অথবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারের একটি জনসভা থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে অত্যন্ত কড়া, আপত্তিকর ও হুমকিপ্রদ মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক।
- মূল অভিযোগ: অভিযোগ পত্রে দাবি করা হয়েছে, জনসমক্ষে দেওয়া তাঁর সেই বক্তব্য কেবল উস্কানিমূলকই ছিল না, বরং তা নির্বাচনী আবহে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে এবং সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করতে প্ররোচনা জুগিয়েছে। সাইবার ক্রাইম থানা আইটি অ্যাক্ট (IT Act) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় এই মামলা রুজু করেছে।
আইনি রক্ষাকবচ ও মামলা বাতিলের মরিয়া চেষ্টা
রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যে তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর আইনি ও প্রশাসনিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। এর আগে দক্ষিণ কলকাতার জোড়া বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান চেয়ে পুরসভার নোটিশের পর, এবার বিধাননগর থানার এই এফআইআর অভিষেকের জন্য আরও এক বড় অস্বস্তি তৈরি করল।
অভিষেকের আইনি শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং নির্বাচনী প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জনসভায় দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃত করে এই মামলা সাজানো হয়েছে বলেই তাঁদের মত। এই কারণেই হাইকোর্ট থেকে জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বা কোনো কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি রক্ষাকবচ পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। এখন হাইকোর্টের শুনানিতে এই মামলার জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।