‘শিক্ষাকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে’, বেসরকারি স্কুলের লাগামছাড়া ফিজ নিয়ে নবান্ন থেকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং স্কুল স্তরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবার এক অত্যন্ত বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলিতে লাগামছাড়া ফিজ বৃদ্ধি এবং অভিভাবক মহলের তীব্র ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলিকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বেসরকারি স্কুলগুলি যেন তাদের ফিজ কাঠামোর ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ও সংযত হয়। এমন কোনো সিদ্ধান্ত যেন তারা না নেয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকারকে কোনো কড়া বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।
এর পাশাপাশি, বিগত সরকারের জমানায় থমকে ও বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজ্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ (Swami Vivekananda Merit-cum-Means Scholarship) পুনরায় চালু করার ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেসরকারি স্কুলের ফি-বৃদ্ধিতে কড়া নজর রাখবে সরকার
একটি বিশেষ সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ফি নিয়ন্ত্রণ ও পরিকাঠামো নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন:
“শিক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে, এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই সাথে আমি বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকেও একটি বার্তা দিতে চাই— আপনারা ফিজের ব্যাপারে সতর্ক হোন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর যেন কোনো বাড়তি বা অন্যায্য আর্থিক বোঝা চাপানো না হয়। স্কুলগুলি এমন কিছু যেন না করেন যাতে বাধ্য হয়ে সরকারকে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।”
স্মার্ট কার্ড নয়, ফিরল বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ
বিগত সরকারের জমানায় মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য তৈরি হওয়া আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ সেই অনুযায়ী এই মেধা বৃত্তি প্রকল্প পুনরায় সরকারিভাবে চালু করার নির্দেশ দেন তিনি, যার ফলে রাজ্যের হাজার হাজার দুঃস্থ অথচ কৃতি ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য সরাসরি আর্থিক অনুদান পাবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
আজকের এই মেগা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। শমীকবাবুও তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন।
মূল অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথা ভেঙে মঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি দর্শকাসনে চলে যান এবং সেখানে উপস্থিত স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের সাথে বেশ কিছু সময় কথা বলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি নতুন সরকারের শিক্ষা নীতি নিয়ে তাঁদের মতামত ও অভাব-অভিযোগের কথাও শোনেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সহজ ও আন্তরিক জনসংযোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে এক বাড়তি উৎসাহের সৃষ্টি করে।