যুবভারতীর গেট থেকে সরছে বিতর্কিত বিকৃত মূর্তি, বড় সিদ্ধান্ত ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের

সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (Salt Lake Stadium) চত্বরে সৌন্দর্যায়নের নামে বসানো বিতর্কিত ও বিকৃত ভাস্কর্যটি এবার পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার যুবভারতীতে গিয়েই এই মেগা ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। রবিবার, ১৭ মে যুবভারতীতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) হাই-ভোল্টেজ কলকাতা ডার্বি ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুবভারতীর ভিভিআইপি (VVIP) গেটের পাশে থাকা ওই বিতর্কিত মূর্তিটি দ্রুত পরিবর্তন করা হবে।
ডার্বির রাতে যুবভারতীতে একঝাঁক ভিভিআইপি
রবিবার ফুটবলের মক্কা যুবভারতীতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মেগা ডার্বি ম্যাচকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। নতুন সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের পাশাপাশি খেলা দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায় এবং অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) সভাপতি কল্যাণ চৌবে। ম্যাচ উপভোগ করার পাশাপাশি স্টেডিয়ামের সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। খেলা শেষে মাঠ থেকে বেরোনোর সময়ই স্টেডিয়ামের প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে থাকা ওই অদ্ভুত আকৃতির মূর্তিটি মন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি তখনই এটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মুছে ফেলা হলো বিশ্ব বাংলা লোগো, ফিরছে খেলার আসল পরিবেশ
বিগত সরকারের জমানায় যুবভারতীর মূল প্রবেশদ্বারের সামনে একটি মানবাকৃতির বিকৃত ও অদ্ভূত ভাস্কর্য বসানো হয়েছিল, যা নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা ছিল। স্টেডিয়ামের ক্রীড়া গরিমা নষ্ট করে রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্যে ওই মূর্তির গায়ে ‘বিশ্ব বাংলা’র লোগোও সেঁটে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ক্রীড়া দফতর সূত্রে খবর, নিশীথ প্রামাণিক ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই যুবভারতীর ওই মূর্তি থেকে বিতর্কিত ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগোটি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে। এবার সেই বিকৃত মূর্তিটিকেই ওখান থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। ক্রীড়ামন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ময়দানের ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন সরকার যুবভারতী স্টেডিয়ামকে রাজনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্র থেকে মুক্ত করে পুনরায় খেলাধুলোর আসল ঐতিহ্য ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল।