চোর সন্দেহে যুবককে গাছে বেঁধে গণপিটুনি

শান্তিনিকেতনের বোলপুরে ফের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। চোর সন্দেহে এক অপরিচিত যুবককে প্রকাশ্য রাস্তায় গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে বোলপুর থানার তাতালপুর কলোনি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বোলপুর থানার পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আক্রান্ত যুবককে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় হাতেনাতে পাকড়াও
তাতালপুর কলোনি এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই এই কলোনি এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ও মন্দিরে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছিল। বারংবার চুরির জেরে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে ও ক্ষোভে ফুটছিলেন। শনিবার সকালে স্থানীয় একটি বাড়ি থেকে এক অপরিচিত যুবককে সন্দেহজনকভাবে বের হতে দেখেন প্রতিবেশীরা। কৌতূহলবশত কয়েকজন চিৎকার শুরু করতেই ওই যুবক এলাকা ছেড়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে কিছু দূর এগোতেই তাকে ধরে ফেলেন। এর পরেই কলোনির একটি গাছে ওই যুবককে শক্ত করে বেঁধে শুরু হয় গণপ্রহার।
পূর্বের চুরির কবুলনামা ও পুলিশের কড়া বার্তা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উত্তেজিত জনতার একাংশের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে ওই যুবক সুনির্দিষ্টভাবে চুরির উদ্দেশ্যেই বাড়িটিতে ঢুকে লুকিয়ে ছিল। মারধরের মুখে পড়ে ধৃত যুবক তাতালপুর এলাকার আরও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলেও স্থানীয়দের একাংশ জানান। তবে গণপিটুনির খবর পেয়ে বোলপুর থানার পুলিশ দ্রুত এলাকায় না পৌঁছলে বড়সড় বিপত্তি ঘটতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং তার প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বোলপুর থানা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পর কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, এলাকায় চুরির ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষের কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে মারধর না করে অবিলম্বে পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গণপিটুনির ঘটনায় কারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে তাদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বোলপুর থানার পুলিশ।