ভুয়ো আধার-প্যান চক্র? নিমতায় ধৃত ৮ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও তাদের ভারতীয় আশ্রয়দাতা!

উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের এ দেশে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধৃত বাংলাদেশিরা দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছিল এবং জাল নথির সাহায্যে ভারতীয় আধার কার্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। সোমবার ধৃতদের ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ জনকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজত এবং ৩ মহিলাসহ বাকিদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
টহলদারির সময় সন্দেহ ও তল্লাশি অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে নিমতা থানার পুলিশ যখন গোলবাগান বাজার এলাকায় রুটিন টহলদারি চালাচ্ছিল, তখন সুমন গাইন নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে স্বীকার করে যে সে বাংলাদেশের নাগরিক। এরপরই পুলিশ বেলঘরিয়ার নন্দননগর আমতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে সুমনের নামে তৈরি জাল ভারতীয় আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ই-রেশন কার্ড, জন্ম শংসাপত্র এবং বেসরকারি ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নগদ ২২ হাজার ৯১০ টাকাও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
ভুয়ো নথির সিন্ডিকেট ও ধৃতদের তালিকা
সুমন গাইনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে নিমতার ফতুল্লাপুর এলাকায় লুকিয়ে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের কথা। এরপর সেখানে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে বাকিদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃত বাংলাদেশিরা হলো— বাহারুল মণ্ডল, আব্দুল রহমান সর্দার, রিয়াজ মণ্ডল, ইলিশ সর্দার, জাহারা বিবি, আনোয়ারো বিবি এবং সুমি বিবি। এদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এদের অবৈধভাবে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নিমতার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতরা এ দেশে বসে কার্যত ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করার একটি বড় সিন্ডিকেট চালাচ্ছিল।
আইনি পদক্ষেপ ও ধৃতদের পাল্টা দাবি
বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া ভারতে প্রবেশ এবং জালিয়াতির অভিযোগে ধৃতদের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’ (Foreigners Act) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃতরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা ভারতেরই স্থায়ী নাগরিক এবং বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটও দিয়েছেন। রাজনৈতিক চক্রান্ত করে তাদের ফাঁসানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করলেও, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক নথির উৎস সন্ধানে এবং এই চক্রের শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানতে পুলিশি জেরা জারি রয়েছে।