৫ দিনেই ফের বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, মধ্যবিত্তের পকেটে টান

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার জেরে দেশের বাজারে আবারও মহার্ঘ হলো জ্বালানি তেল। গত ১৫ মে লিটার প্রতি ৩ টাকা দাম বাড়ানোর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য। এবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারে গড়ে আরও ৯০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মধ্যবিত্তের।
মেট্রো শহরগুলোর বর্তমান চিত্র
নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৮৭ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ টাকা ৬৪ পয়সায় এবং ডিজেল ৯১ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯১ টাকা ৫৮ পয়সা। তিলোত্তমা কলকাতায় পেট্রোলের দাম ৯৬ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১০৯ টাকা ৭০ পয়সায়, আর ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৭ পয়সায়। অন্যদিকে, চেন্নাইতে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম যথাক্রমে ১০৪ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ৯৬ টাকা ১১ পয়সা।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (SAED) বসানো হলেও, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগামহীন দাম। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ প্রায় হয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে সোমবারই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
টানা জ্বালানির দাম বাড়ায় গণপরিবহন ও পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। কাঁচামাল ও খাদ্যসামগ্রী পরিবহনের খরচ বাড়লে বাজারে সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী দিনে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর ওপর জোর দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।