শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতেই জামাতিদের চিড়বিড়ানি বেশি, অনুপ্রবেশকারী ও আইনশৃঙ্খলায় কড়া বার্তা সরকারের

শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতেই জামাতিদের চিড়বিড়ানি বেশি, অনুপ্রবেশকারী ও আইনশৃঙ্খলায় কড়া বার্তা সরকারের

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার অনুপ্রবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, বিজেপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পূর্বঘোষিত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং নাম বাদ দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এবার তাদের ফেরত পাঠানোর অর্থাৎ ‘ডিপোর্ট’ করার সময় এসেছে। অভারতীয়দের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যে রাস্তা দিয়ে তারা এসেছিলেন, সেই রাস্তা দিয়েই যেন বাংলাদেশে ফিরে যান। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের মধ্যে ছটফটানি বা ‘চিড়বিড়ানি’ অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তবে তিনি কোনো হুমকিতে মাথা নোখাবেন না এবং দেশের সুরক্ষাকেই সবার আগে প্রাধান্য দেবেন।

পুলিশের ওপর হামলায় কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস

সম্প্রতি কলকাতার পার্ক-সার্কাস এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কাশ্মীরের শ্রীনগরের মতো কলকাতাতেও পাথর ছোড়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আগের সরকারের মতো পুলিশকে হাত-পা বেঁধে বসিয়ে রাখা হবে না। গুণ্ডামি ও অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে পুলিশ প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের গায়ে হাত দিলে আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান রাজ্যে দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধান এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন মোড় এনে দিতে পারে। সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি একদিকে যেমন অপরাধীদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *