বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের ছায়া, এবার সপ্তাহে দু’দিন ভার্চুয়াল মোডে ওডিশা হাইকোর্ট!

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট। স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি ভারতেও জ্বালানি তেলের জোগানে টান পড়েছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এবার বড় পদক্ষেপ নিল ওডিশা হাইকোর্ট। আদালত সূত্রের খবর, সপ্তাহে দু’দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সমস্ত কাজকর্ম সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল বা অনলাইন মোডে পরিচালিত হবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমিয়ে পেট্রল-ডিজেলের অপচয় রোখাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
আদালতের পরিচালনায় বড় বদল
নতুন এই নির্দেশিকার ফলে আইনজীবী, মামলাকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত না হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিতে হবে। তবে জরুরি এবং অত্যাবশ্যকীয় মামলার ক্ষেত্রে কাজের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে। শুধু বিচারপ্রক্রিয়াই নয়, আদালতের কর্মীদের উপস্থিতির ক্ষেত্রেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই দুই দিন মাত্র ৫০ শতাংশ কর্মী আদালত চত্বরে এসে কাজ করবেন এবং বাকি অর্ধেক কর্মী বাড়ি থেকে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব সামলাবেন। হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আদালত চত্বরে যানবাহনের চাপ যেমন কমবে, তেমনই সরকারি স্তরে জ্বালানি সংরক্ষণের একটি বড় নজির তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও ভবিষ্যতের প্রভাব
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস এবং ভোজ্য তেলের মতো জরুরি আমদানিজাত পণ্য বুঝে ও কম ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি কর্পোরেট ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি চালুর পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে যাতায়াত শুরু করেছেন। ওডিশা হাইকোর্টের এই ভার্চুয়াল পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত মূলত সেই সাশ্রয় নীতিরই অংশ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ওডিশা হাইকোর্টের এই মডেল অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় প্রতিষ্ঠানগুলিও আগামীদিনে হাইব্রিড বা অনলাইন কর্মপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে পারে।