ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ, জালিয়াতদের রুখতে সিবিআইয়ের ব্রহ্মাস্ত্র ‘অভয়’ অ্যাপ

দেশজুড়ে সাইবার অপরাধীদের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে পুলিশের ইউনিফর্ম পরে বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভুয়ো পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একদল সাইবার জালিয়াত। মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং বা চাইল্ড পর্নোগ্রাফির মতো গুরুতর অপরাধের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। এরপর বাইরের জগতের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ‘ভেরিফিকেশন’ বা ‘জামিনের’ নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই আতঙ্কের আবহে আমজনতাকে রক্ষা করতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশেষ টুল ‘অভয়’ নিয়ে এল সিবিআই।
৩০ সেকেন্ডেই ফাঁস হবে জালিয়াতি
ডিজিটাল প্রতারকদের টেকনোলজি দিয়েই কুপোকাত করতে সিবিআই-এর এই নতুন অ্যাপ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। কোনো সন্দেহজনক ভিডিও কল বা নথির সত্যতা যাচাই করতে ‘অভয়’ অ্যাপটি মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় নেবে। এই অ্যাপে থাকা আধুনিক প্রযুক্তি নিমেষেই প্রতারকদের এআই-ভয়েস ক্লোন বা নকল কণ্ঠস্বর চিনে ফেলতে পারে। একই সাথে ভিডিও কলের ব্যাকগ্রাউন্ডের আলো, ছায়া ও পিক্সেল স্ক্যান করে সেটি আসল থানা নাকি ভুয়ো স্টুডিও, তাও ধরে ফেলবে। সিবিআই ও পুলিশের সমস্ত অফিসিয়াল নম্বরের ডেটাবেস এই অ্যাপে থাকায়, কোনো কল ভুয়ো নম্বর থেকে এলে স্ক্রিনে লাল সিগন্যাল ভেসে উঠবে। এমনকি প্রতারকদের পাঠানো ভুয়ো ওয়ারেন্ট বা আইডির কিউআর কোড এবং সিল স্ক্যান করে মাত্র ১০ সেকেন্ডে আসল-নকলের পার্থক্য জানিয়ে দেবে এই অ্যাপ।
প্রতারণা এড়াতে করণীয় ও প্রভাব
বর্তমানে এই অ্যাপটি সিবিআই-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক কল বা নথির স্ক্রিনশট এই অ্যাপের ‘ভেরিফাই কল’ অপশনে আপলোড করলেই সবুজ বা লাল সংকেতের মাধ্যমে সত্যতা জানা যাবে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যাপের সঠিক ব্যবহার দেশে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে চলা ব্ল্যাকমেলিংয়ের গ্রাফ অনেকটাই নামিয়ে আনবে। তবে আইনি নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের কোনো সংস্থাই ফোনে বা ভিডিও কলে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। ফলে ভয় না পেয়ে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ দ্রুত যোগাযোগ করাই এই জালিয়াতি রুখবার প্রধান উপায়।