নিজের রেকর্ড ভেঙে বত্রিশমবার এভারেস্ট জয় করলেন নেপালের কামি রিতা শেরপা!

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা যেকোনো পর্বতারোহীর কাছে জীবনের শ্রেষ্ঠ স্বপ্ন। কিন্তু নেপালের ৫৬ বছর বয়সী প্রবীণ পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপার কাছে এ যেন এক নিয়মিত অভ্যাস। নিজের গড়া বিশ্ব রেকর্ড নিজেই ভেঙে এবার ৩২ বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখলেন ‘এভারেস্ট ম্যান’ নামে পরিচিত এই অনন্য পর্বতারোহী। গত রবিবার সকালে ‘১৪ পিকস এক্সপেডিশন’ আয়োজিত একটি অভিযাত্রী দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উঁচু চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন। নেপালের পর্যটন দপ্তর এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অনন্য দক্ষতার এক বিরল ইতিহাস
১৯৭০ সালে নেপালের সোলুখুম্বু জেলায় জন্ম নেওয়া কামি রিতার পর্বতারোহণ যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে এক সহায়তাকারী কর্মী হিসেবে। এরপর ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। পর্বত জয়ের এই অদম্য ইচ্ছার পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের কঠোর আত্ম-শৃঙ্খলা, অভিজ্ঞতা এবং অসামান্য কারিগরি দক্ষতা। হিমালয়ের প্রতিকূল আবহাওয়ায় যেখানে তিন শতাধিক পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন, সেখানে কামি রিতা ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও বছরে দুবার করে এভারেস্ট জয় করার মতো অবিশ্বাস্য কীর্তি দেখিয়েছেন। এভারেস্ট ছাড়াও কে-২, চো ওইউ, লোৎসে এবং মানাসলুর মতো বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক শৃঙ্গগুলোও তিনি জয় করেছেন।
বৈশ্বিক পর্যটন ও পর্বতারোহণে ইতিবাচক প্রভাব
কামি রিতার এই ঐতিহাসিক সাফল্য বিশ্বজুড়ে পর্বতারোহীদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে। তাঁর এই অর্জন নেপালের পর্যটন শিল্পকে আরও চাঙ্গা করতে এবং বিশ্বমঞ্চে হিমালয় অঞ্চলের শেরপাদের দক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখবে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্বত অভিযানে কামি রিতার মতো দক্ষ গাইডের নেতৃত্ব আগামী দিনে অন্যান্য পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা ও সফলতার হার আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।