আরব মিত্রদের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

আরব মিত্রদের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ইরানকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে মঙ্গলবারই যে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর কথা ছিল, তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সময় সোমবার গভীর রাতে নিজের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই নাটকীয় ঘোষণা দেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের তিন প্রভাবশালী দেশ কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষনেতাদের বিশেষ অনুরোধে ও একটি সম্ভাব্য চুক্তির স্বার্থে আপাতত এই যুদ্ধযাত্রা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তবে শর্ত পূরণ না হলে যেকোনো মুহূর্তে তেহরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আরব দুনিয়ার মধ্যস্থতা ও ট্রাম্পের পিছু হটা

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান যৌথভাবে তাঁকে এই হামলা স্থগিতের অনুরোধ জানান। আরব নেতাদের বিশ্বাস, বর্তমানে ইরানকে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে এবং এর মাধ্যমে এমন একটি চুক্তি সম্ভব, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। মিত্রদের এই প্রস্তাবের ওপর আস্থা রেখে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইনকে মঙ্গলবার নির্ধারিত হামলাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হতে হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্পূর্ণ অবসান। চুক্তি সফল না হলে মার্কিন বাহিনীকে সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তেজনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার আক্রমণের হুমকি দিলেও পরে তা থেকে সরে এসেছেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতি এড়াতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। ফলে সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রেখে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সংকুচিত করাই এখন ওয়াশিংটনের কৌশল। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা আক্রমণের শক্তিতে খোদ মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলোও শঙ্কিত, যার কারণেই এই মধ্যস্থতার উদ্যোগ। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের একটি শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্পকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল। ওই প্রস্তাবে ২৮ মে-র পর থেকে হওয়া যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি করার পাশাপাশি ইরানকে ইসলামিক রিপাবলিক হিসেবে স্বীকৃতির কথা বলা হলেও পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনের কোনো উল্লেখ ছিল না। এই অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বোমার মাধ্যমেই আলোচনার পথ বেছে নেবে। এই স্থগিতাদেশ সাময়িক স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্য এখনো এক বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তেই দাঁড়িয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *