চলন্ত স্কুটারে দু’হাত ছেড়ে পদ্মাসন, লখনউয়ের ব্যস্ত রাস্তায় রিল বানানোর বিপজ্জনক খেলায় ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

চলন্ত স্কুটারে দু’হাত ছেড়ে পদ্মাসন, লখনউয়ের ব্যস্ত রাস্তায় রিল বানানোর বিপজ্জনক খেলায় ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিল বানানোর প্রবণতা ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমনই এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ। শহরের এক জনাকীর্ণ রাস্তায় দু’হাত ছেড়ে স্কুটারের ওপর পদ্মাসন করে বসে স্টান্ট করতে দেখা গেল এক মধ্যবয়সি ব্যক্তিকে। সেই বিপজ্জনক স্টন্টের ভিডিও নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ব্যস্ত রাস্তায় যোগাসন অন হুইলস

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, লখনউয়ের গোমতি নগর এলাকার একটি ব্যস্ত রাস্তায় রাতের অন্ধকারে হলুদ রঙের একটি স্কুটারে চেপে যাচ্ছেন চশমা ও হলুদ টিশার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি। হঠাৎই চলন্ত স্কুটারের হ্যান্ডেল থেকে দু’হাত ছেড়ে দিয়ে তিনি সিটের ওপর রীতিমতো পদ্মাসন করে বসেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই বিপজ্জনক কায়দায় স্কুটারটি এগিয়ে চলে। পথচলতি অন্যান্য চালক ও আরোহীরা তাকে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও, তিনি কারও কথায় কান দেননি। উলটে নিজের খেয়ালেই এই মরণখেলা চালিয়ে যান।

আইন অমান্যের চরম পরাকাষ্ঠা ও প্রভাব

অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির স্কুটারে কোনও নম্বর প্লেট ছিল না এবং তার মাথায় কোনও হেলমেট বা অন্য কোনও সুরক্ষামূলক সরঞ্জামও ছিল না। ট্রাফিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটাগরিকরা লখনউ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইক আর ভিউ পাওয়ার এই অন্ধ মোহ সমাজে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে কেবল ওই চালকের নিজের জীবনই নয়, রাস্তায় থাকা অন্যান্য সাধারণ পথচারী ও চালকদের জীবনও চরম বিপদের মুখে পড়ছে। একটি সামান্য ভারসাম্যের ভুল বড়সড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারত। এই ঘটনার পর সচেতন নাগরিক মহল থেকে রাস্তায় ট্রাফিক নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি তোলা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *