সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ায় সবুজ সংকেত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী, কাটল ইডির আইনি জট!

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অবশেষে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এই সবুজ সংকেত মেলায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সামনে আর কোনো বাধা রইল না।
এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিচার ভবনে মামলার শুনানির সময় ইডি আদালতে জানিয়েছিল যে, তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য দফতর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলার কারণে চার্জশিট পেশ করার পরও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দাবি করা হয়েছে, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই দুর্নীতির তদন্ত থমকে ছিল এবং সিবিআই বা ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই বাধা দূর করে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আইনি ছাড়পত্র দিল।
দুর্নীতির শিকড় ও তদন্তের অগ্রগতি
আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে নেমে সিবিআই প্রথম এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতির হদিস পায়। এরপরই সমান্তরালভাবে তদন্ত শুরু করে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিট অনুযায়ী, সন্দীপ ঘোষের আমলকালে হাসপাতালের ভেতরে বেআইনি পার্কিং চালানো, নিয়ম বহির্ভূতভাবে হাসপাতালের জরুরি ও মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা এবং বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। এই চক্রে সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি বিপ্লব সিং ও সুমন হাজরার মতো একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও জড়িয়ে পড়ে, যাদের নিয়ম ভেঙে দিনের পর দিন টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
প্রভাব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
প্রশাসনিক এই ছাড়পত্রের ফলে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচার প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সরকার একদিকে যেমন দুর্নীতি দমনে তাদের কড়া অবস্থানের বার্তা দিল, তেমনই পূর্বতন সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলল। সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি জট কেটে যাওয়ায় এখন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা যাবে অভিযুক্তদের, যা আরজি করের মূল ঘটনার সামগ্রিক বিচারপ্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করবে।