মেসি কাণ্ডে তোলপাড় কলকাতা, এবার অরূপ বিশ্বাস ও রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে মামলার পথে শতদ্রু

কলকাতায় লিওনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে এবার আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বজয়ী ফুটবলারকে ঘিরে যে চরম অব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার দায় এড়াতে এবার সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রাক্তন পুলিশ ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বর্তমান রাজ্য সরকারের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক কড়া তদন্তের আশ্বাস দিয়ে ‘মেসি কাণ্ডে’র ফাইল খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে এই হাই-ভোল্টেজ বিতর্ক ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিপর্যয়ের নেপথ্যে ব্যর্থতা ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, কলকাতায় মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আগেভাগেই আশঙ্কার কথা জানানো হলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। জেড প্লাস ক্যাটাগরির এই হাই-প্রোফাইল ইভেন্টে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় স্থানীয় প্রশাসন। যুবভারতীতে মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো দি পল মাঠে প্রবেশ করতেই একদল বহিরাগত তাঁদের ঘিরে ফেলে, যার ফলে হাজার হাজার সাধারণ সমর্থক প্রিয় তারকাকে দেখা থেকে বঞ্চিত হন। এর জেরে ক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ওইদিনই গ্রেফতার করা হয় শতদ্রুকে। আয়োজকদের দাবি, দিল্লি, মুম্বই বা হায়দরাবাদে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও কলকাতায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করা হয়েছে এবং আসল দোষীদের আড়াল করতে শতদ্রুকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। শতদ্রুর আইনজীবীর স্পষ্ট বক্তব্য, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস এবং রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং সংগৃহীত ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে এই মামলার প্রভাব রাজ্যের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর অতি-সক্রিয়তা এবং মেসির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলয় লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও কলকাতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কঠোর অবস্থান এবং দোষীদের শাস্তির আশ্বাস এই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আইনি ও প্রশাসনিক এই দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের অস্বস্তি যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা নিশ্চিত।