কালবৈশাখীর ঝড়ে শিয়ালদহ মেইন শাখায় রেল বিপর্যয়, অফিসফেরত যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

দক্ষিণবঙ্গের তীব্র দহনের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও তা ডেকে আনল এক বড় বিপর্যয়। সোমবার সন্ধের পর হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে শিয়ালদহ মেইন শাখার শিমুরালিতে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে। গাছটি সরাসরি ওভারহেড তারের ওপর পড়ায় ছিঁড়ে যায় ট্রেনের বিদ্যুৎ সংযোগকারী লাইন। এর জেরে শিয়ালদহ মেইন শাখার পাশাপাশি রানাঘাট-গেদে লাইনেও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং পরপর বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
ব্যাহত রেল পরিষেবা ও নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ
অফিস ছুটির পর যখন হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিয়ালদহের মতো ব্যস্ততম লাইনে আচমকা ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন অফিসফেরত নিত্যযাত্রীরা। বিভিন্ন স্টেশনে থমকে দাঁড়ায় একাধিক লোকাল ট্রেন। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাইনের ওপর থেকে গাছ সরিয়ে এবং ছেঁড়া তার মেরামত করে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।
প্রকৃতির জোড়া মার, বজ্রাঘাতে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল হচ্ছিলেন। এদিন সন্ধের পর আবহাওয়া আচমকা বদলে যায়। মুর্শিদাবাদ, বীরভূমসহ বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হয়। এই ঝড়-বৃষ্টি একদিকে যেমন স্বস্তি এনেছে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। মাঠে কাজ করার সময় আচমকা বজ্রাঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত, তেমনই বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ গ্রামীণ এলাকায় নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।