তীব্র গরমে স্বস্তির বৃষ্টি, কলকাতা-সহ ৫ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি

দীর্ঘদিন ধরে চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা রাজ্যবাসীর জন্য অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সোমবার রাত থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব বিহারের ওপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি বর্তমানে উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন এলাকার ওপর অবস্থান করছে। এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করায় আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে।
দক্ষিণবঙ্গে ঝড়ের দাপট ও কমলা সতর্কতা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সাথে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার কারণে সেখানে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২০ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই এই ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি ও ধসের আশঙ্কা
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সোমবার থেকেই ঝড়-বৃষ্টির দাপট শুরু হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কালিম্পঙের ঝালং-এ সর্বোচ্চ ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২১ ও ২২ মে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাগাতার এই বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সময়ের আগেই বাংলায় বর্ষার আগমন?
চলতি মরশুমের আবহাওয়ার সবচেয়ে বড় খবর হলো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর দ্রুত অগ্রগতি। নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা প্রবেশ করে গেছে। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এই মৌসুমী বায়ু বঙ্গোপসাগরের আরও ভেতরে প্রবেশ করার জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনুকূল। এর ফলে রাজ্যে এবার স্বাভাবিক সময়ের আগেই অকাল বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলছে।