মুখ্যমন্ত্রী হয়েই অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, টার্গেটে বাংলাদেশের জামাত

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকেই অনুপ্রবেশ রুখতে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরাসরি বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামিকে তীব্র নিশানা করলেন তিনি। কলকাতায় এক বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে রাজ্যের বিরোধী দলগুলির চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতিরা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অ-ভারতীয় ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও ভোটার তালিকা সংশোধন
বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল ‘অনুপ্রবেশকারী হঠাও’ স্লোগান। ক্ষমতায় আসার পরেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপর হয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে ইতিমধ্যেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে চিহ্নিত করে নাম বাদ দেওয়ার কাজও শেষ হয়েছে। এবার তাঁদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর পালা।
কড়া পদক্ষেপের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
শুভেন্দু অধিকারীর এই আগ্রাসী মনোভাবের জেরে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা বন্ধ করার মতোন সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই নতুন সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন জাতীয় নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে, তেমনই অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার রাজনীতিতে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে চলেছে।