তীব্র গরমে ঘরে ঘরে বাড়ছে ভাইরাল জ্বর! সুস্থ থাকতে এড়িয়ে চলুন চিকিৎসকদের নিষিদ্ধ করা এই ভুলগুলো

তীব্র গরমে ঘরে ঘরে বাড়ছে ভাইরাল জ্বর! সুস্থ থাকতে এড়িয়ে চলুন চিকিৎসকদের নিষিদ্ধ করা এই ভুলগুলো

কখনও তীব্র দাবদাহ, আবার কখনও আচমকা বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি রূপের কারণে চারপাশের পরিবেশ দ্রুত পাল্টাচ্ছে, যা ভাইরাসদের বংশবৃদ্ধির জন্য একেবারে আদর্শ সময় হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চারদিকে একপ্রকার রেসপিরেটরি ভাইরাল ইনফেকশন বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। এর ফলে ঘরে ঘরে আচমকাই শুরু হচ্ছে সর্দি-কাশি, হালকা জ্বর আর তীব্র শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া বদলালে এই ধরনের ভাইরাসগুলো নিজেদের জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটায়, যা সংক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে তরুণ ও মাঝবয়সিরা

সাধারণত এই ধরনের ভাইরাল সংক্রমণ বয়স্ক বা শিশুদের বেশি কাবু করে। তবে বর্তমানের এই গরমে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবার ভাইরাল ইনফেকশনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন মাঝবয়সি এবং অল্পবয়সিরাই। অবশ্য এর পাশাপাশি শিশুদের মধ্যেও এই জ্বরের প্রকোপ ভালোই দেখা যাচ্ছে। মূলত বাইরে বের হওয়া এবং তাপমাত্রার তারতম্যের মুখোমুখি হওয়ার কারণেই কর্মক্ষম যুবসমাজ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লক্ষণ এবং সুস্থ থাকার উপায়

চলতি এই ভাইরাল সংক্রমণের মূল লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে জল পড়া, অনবরত হাঁচি বা কাশির মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা। অনেকের ক্ষেত্রে আবার এই সংক্রমণ সরাসরি পেট খারাপ বা হজমের গোলমাল দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। এর সঙ্গে থাকছে মারাত্মক শারীরিক ক্লান্তি ও গা-হাত-পা ভার হয়ে থাকার মতো উপসর্গ। এই পরিস্থিতি থেকে সুস্থ হতে রোগীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। শরীরকে জলশূন্যতা থেকে বাঁচাতে প্রচুর জল এবং ওআরএস (ORS) পান করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে উপসর্গভিত্তিক ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল বা কাশির ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

অসচেতনতায় বাড়ছে বিপদ

এই সময়ে সুস্থ থাকতে কয়েকটি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু এটি ভাইরাল ইনফেকশন, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শরীরের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। এছাড়া বাইরে কড়া রোদ ও গরম থেকে ঘেমে এসেই তড়িঘড়ি এসির ঠান্ডা ঘরে ঢুকে পড়া যাবে না। তাপমাত্রা পরিবর্তনের এই আকস্মিক ধাক্কা শরীর নিতে পারে না বলেই শিশু ও বয়স্করা বেশি অসুস্থ হচ্ছেন। একই সাথে ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা জল বা কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়ার অভ্যাসও এই সময়ে পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *