মমতার দুর্গ জয়, ভবানীপুরবাসীকে ঘরের ভাইয়ের মতো পাশে থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

মমতার দুর্গ জয়, ভবানীপুরবাসীকে ঘরের ভাইয়ের মতো পাশে থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বাংলা। একুশের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবারও নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভবানীপুর কেন্দ্রেও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর সোমবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত এক বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সদ্য পরাজিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় নিশানা করার পাশাপাশি ভবানীপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরের ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অহঙ্কার চূর্ণ করে নাগরিকেরা তাঁকে জয়ী করেছেন, তাই তিনি সারাজীবন তাঁদের ভাইয়ের মতো পাশে থাকবেন।

এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এক গৌরবময় জয় হাসিল করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বিরাট জয়কে এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যেই উৎসর্গ করেছেন তিনি। ভোটারদের ভালোবাসার ঋণ কাজের মাধ্যমে শোধ করার অঙ্গীকার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য ভবানীপুরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে বিধায়কের নিজস্ব কার্যালয় খোলা হবে। এর পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডিও চালু করা হবে, যাতে যে কোনও প্রয়োজনে দিন-রাত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকে সাধারণ মানুষ পাশে পান। তবে রাজনৈতিক কটাক্ষের সুরে তিনি জানান, ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে এই মুহূর্তে কোনও বিধায়ক অফিস খোলা হচ্ছে না।

নিজের বুথেই মমতা হারলেন, দাবি শুভেন্দুর

ক্যামাক স্ট্রিটের মঞ্চ থেকে বুথভিত্তিক ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূল জমানার শেষ দিনগুলির দিকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কেন্দ্রের স্থায়ী বাসিন্দা এবং যেখানে তিনি নিজে ভোট দেন, সেই মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলের চারটি বুথেই বিজেপি লিড পেয়েছে। যিনি নিজের বাড়ির বুথেই দলের ভরাডুবি রুখতে পারেন না, তাঁকে বাংলার মানুষ চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন এবং ওঁর রাজনৈতিক জীবনের অধ্যায় সম্পূর্ণ শেষ বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দম্ভ ভেঙে ভবানীপুরের নাগরিকেরা নতুন ভোর এনেছেন।

তোলাবাজি ও কাটমানিমুক্ত ভবানীপুরের আশ্বাস

বিগত তৃণমূল জমানায় ভবানীপুর ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার যে বিস্তর অভিযোগ উঠত, তার বিরুদ্ধে এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিনি জোর গলায় বলেন যে, তোলাবাজি, কাটমানি কিংবা কোনও রকমের গুন্ডাভাতা আদায় করার দিন এবার ভবানীপুর থেকে চিরতরে শেষ হয়ে গেল। বাংলায় এখন ভয়ের পরিবেশ সম্পূর্ণ বিদায় নিয়েছে এবং মানুষের মনে নতুন ভরসার দিন প্রবেশ করেছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *