চন্দ্রনাথ খুনে বড় মোড়! দিল্লি পালানোর আগেই টোল প্লাজায় ধরা পড়ল রাজকুমার

রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দেওয়া চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছিল তাঁর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে। এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় সোমবার উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের একটি টোল প্লাজা থেকে মূল অভিযুক্ত তথা পেশাদার শুটার রাজকুমার সিংকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ দল। সিবিআই তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এই মামলায় এটিই প্রথম গ্রেফতার।
হরিদ্বার হয়ে দিল্লি পালানোর ছক ও নাটকীয় গ্রেফতার
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথকে খুনের পর থেকেই ভিন রাজ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার বাসিন্দা এই শার্প শুটার। সিবিআই-এর তাড়া খেয়ে হরিদ্বার হয়ে গাড়িতে করে দিল্লির দিকে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল সে। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে এনএইচ-৫৮ জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত ছাপার টোল প্লাজা এলাকায় ফাঁদ পাতেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। হরিদ্বারের দিক থেকে আসা গাড়িটি টোল প্লাজায় পৌঁছনো মাত্রই সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে রাজকুমারকে পাকড়াও করা হয়। এর আগে দিল্লির একটি আস্তানায় অভিযান চালালেও অত্যন্ত চতুর এই দুষ্কৃতী পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে চম্পট দিয়েছিল।
তদন্তের সূত্র ও খুনের নেপথ্য কারণ
সিবিআই-এর হাতে তদন্তভার যাওয়ার আগে রাজ্য পুলিশের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মায়ঙ্ক এবং রাজ সিং সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা করার পরই এই পেশাদার শুটার রাজকুমারের নাম সামনে আসে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন পর মধ্যমগ্রামের রাস্তায় গাড়ি লক্ষ্য করে মোটরবাইক আরোহী দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথ। রাজনৈতিক কারণেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। ১ লক্ষ টাকার চুক্তি এবং টোল প্লাজা পার হওয়ার আগে ঘাতক গাড়ির নম্বর প্লেট বদলানোর মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস
মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারীকে এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয় তীব্র চাঞ্চল্য। সম্প্রতি নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। রাজকুমার সিং গ্রেফতার হওয়ার পর এখন এই খুনের নেপথ্যে থাকা মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা পরিকল্পনাকারীদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছে সিবিআই। এই গ্রেফতারির ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল ষড়যন্ত্রকারী এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নাম দ্রুত সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।