ব্যয় সঙ্কোচনে ব্যাঙ্কগুলির উপর কড়া সরকারি বিধিনিষেধ, জ্বালানি ও খরচ কমাতে জারি একগুচ্ছ নির্দেশ

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির বাজারে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের ব্যয় সঙ্কোচনের লক্ষ্যে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং এলআইসি-র মতো শীর্ষস্থানীয় সরকারি ব্যাঙ্ক ও বীমা সংস্থাগুলির উপর বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রক। করোনা মহামারির দিনগুলির মতো করেই কর্মকর্তাদের গতিবিধিতে রাশ টেনে এই কঠোর অর্থনৈতিক নির্দেশিকা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণে রাশ ও ভার্চুয়াল বৈঠকের নির্দেশ
সরকারি আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ যতটা সম্ভব কমাতে হবে। সশরীরে উপস্থিত থেকে বৈঠক করার পরিবর্তে ভিডিও কনফারেন্সিং বা ভার্চুয়াল মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সেমিনারেও কর্মকর্তাদের সশরীরে না গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহার বৃদ্ধি
জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাগুলির অধীনে থাকা পেট্রোল ও ডিজেল চালিত ভাড়া করা গাড়িগুলিকে দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহনে (ইভি) রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের খরচ বাঁচবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার ঘটবে।
সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। জ্বালানি আমদানির জন্য ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই মূলত এই ‘লকডাউন’ সদৃশ ব্যয় সঙ্কোচনের পথে হেঁটেছে সরকার। প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে শুরু হওয়া এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।