৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে ভিজবে কলকাতা, বিকেলের পরেই কালবৈশাখীর দাপট দক্ষিণবঙ্গে!

৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে ভিজবে কলকাতা, বিকেলের পরেই কালবৈশাখীর দাপট দক্ষিণবঙ্গে!

তীব্র গরম আর ভ্যাপসা গরমে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা দক্ষিণবঙ্গবাসীর, তখনই স্বস্তির বার্তা শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আজ, মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অক্ষরেখার ফলেই এই আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা।

কলকাতায় বৃষ্টির পূর্বাভাস ও তাপমাত্রা

কলকাতায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকবে। আবহাওয়া দফতরের সকালের বুলেটিন অনুযায়ী, দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মহানগরের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৬২ শতাংশের আশেপাশে থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই বৃষ্টির জেরে গরম ও অস্বস্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।

জেলায় জেলায় ঝড়ের দাপট ও প্রভাব

আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় দুর্যোগের তীব্রতা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে। বাকি জেলাগুলিতে দমকা হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।

অন্যদিকে পিছিয়ে নেই উত্তরবঙ্গও। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের মতো পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমলেও, গাছ পড়ে যাওয়া বা যানচলাচল ব্যাহত হওয়ার মতো হালকা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বিকেলের পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *