ওবিসি সংরক্ষণ তালিকায় বড় বদল, ৭৭টি সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার সিলমোহর

রাজ্য ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসি তালিকা সংশোধনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়েই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওবিসি তালিকা থেকে নতুন করে ৭৭টি সম্প্রদায় বাদ পড়তে চলেছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক বড়সড় পুনর্বিন্যাস ঘটাবে।
হাইকোর্টের নির্দেশিকা ও তালিকা সংশোধনের কারণ
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি ও পদগুলিতে ওবিসিদের জন্য বিদ্যমান সংরক্ষণ ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওবিসি তালিকা থেকে ‘উপ-শ্রেণিবিন্যাস’ (sub-categorization) প্রথাটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে তালিকাটি সংশোধন করা হবে। মূলত ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া রায়কে কার্যকর করতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাম আমলের শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমল পর্যন্ত যে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তা প্রধানত ধর্মের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে ঢালাও সংরক্ষণ আইনি বৈধতা না পাওয়ায় আদালত ২০১০ সালের পর থেকে জারি হওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমান মন্ত্রিসভা সেই রায়কে মান্যতা দিয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটির নতুন করে তদন্ত বা এনকোয়ারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আদালতের তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলির অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সংরক্ষণ নীতিতে এক বিশাল প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে চলেছে। উপ-শ্রেণিবিন্যাস উঠে যাওয়ায় সরকারি চাকরি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওবিসি কোটার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমতা ফিরবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক ওবিসি শংসাপত্র বাতিল এবং সম্প্রদায় বাদ পড়ার কারণে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলির মধ্যে আইনি ও সামাজিক স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। যোগ্যতা ও সুনির্দিষ্ট সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন করে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে প্রকৃত অনগ্রসর শ্রেণি সুফল পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।