পার্ক সার্কাসে রণক্ষেত্র, মূল অভিযুক্ত ফরিদুলসহ গ্রেফতার ৪৬, কড়া বার্তা শুভেন্দুর

কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে রবিবারের নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিওগ্রাফি খতিয়ে দেখে গত দুই দিনে মোট ৪৬ জনকে জালে তোলা হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকারের প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং বেআইনি নির্মাণ ও বুলডোজার অভিযানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আচমকাই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল পার্ক সার্কাস এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এখনও শহরজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে।
রবিবার দুপুরে পার্ক সার্কাস এলাকায় বেআইনিভাবে রাস্তা অবরোধ করে একদল বিক্ষোভকারী। পুলিশ সেই অবরোধ সরাতে গেলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। দুষ্কৃতীরা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু করে, বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। এই দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং সিআরপিএফ-এর দুই জওয়ান গুরুতর আহত হন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও জিরো টলারেন্স নীতি
ঘটনার পরেই কড়া অবস্থান নিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সাউথ ইস্ট ডিভিশনের ডিসি অফিসে গিয়ে আহত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও ধরনের অসামাজিক কাজ বা গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর জি কর কাণ্ডের পর পুলিশের প্রতি জনমানসে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, সরকারের এই দ্রুত অ্যাকশনে সাধারণ মানুষ কিছুটা আশার আলো দেখছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের মাত্র আট দিনের মাথায় পার্ক সার্কাসের মতো একটি সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নতুন সরকার রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করার এক দৃঢ় বার্তা দিতে চেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ যেমন একদিকে অপরাধীদের মনে ভয় ধরাবে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সুরক্ষাবোধ ও সরকারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।