পদ্ম সম্মানে ভূষিত বাংলার ১১ কৃতি, ২৫ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে জমকালো অনুষ্ঠান
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
আগামী ২৫ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার প্রদান করবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রথম নাগরিক অলঙ্করণ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন কৃতি ব্যক্তিত্বকে এই বছরের পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্র মোট ১৩১টি পদ্ম পুরস্কারের ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী রয়েছে। এই তালিকায় ১৯ জন মহিলা, বিদেশি বা এনআরআই বিভাগের ৬ জন এবং ১৬ জন মরণোত্তর প্রাপক স্থান পেয়েছেন।
শিল্প থেকে বিজ্ঞান, সেরাদের সেরা বাংলা
পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই বছর যাঁরা পদ্মশ্রী পাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন চলচ্চিত্র জগতের অবিসংবাদিত তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ৪০০-রও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেতা আজ বাংলা সিনেমার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। সঙ্গীত জগৎ থেকে ভূষিত হচ্ছেন প্রখ্যাত তবলা বাদক কুমার বসু এবং স্বনামধন্য সন্তুর বাদক তরুণ ভট্টাচার্য। ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে অনন্য নজির গড়েছেন কাঁথা সেলাই শিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং মসলিন জামদানি শিল্পের কারিগর জ্যোতিষ দেবনাথ। নাট্যজগতে অসামান্য অবদানের জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন প্রখ্যাত নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা হরি মাধব মুখোপাধ্যায় এবং সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হচ্ছেন প্রখ্যাত সাঁওতালি লেখক রবিলাল টুডু।
বিজ্ঞান ও সমাজসেবার ক্ষেত্রেও বাংলার অবদান এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসা পৌঁছে দিয়ে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. সরোজ মণ্ডল। এছাড়া শিক্ষা ও পরিবেশ গবেষণায় অবদানের জন্য বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক গম্ভীর সিংহ ইয়োনজোন, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অশোক কুমার হালদার এবং উত্তরবঙ্গের রসায়নের বিশিষ্ট অধ্যাপক মহেন্দ্র নাথ রায় এই সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন।
সামাজিক প্রভাব ও কাজের স্বীকৃতি
এই পুরস্কার প্রদানের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে কৃতিদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। যেমন, ড. সরোজ মণ্ডল ওপিডিতে ৬ লক্ষের বেশি রোগীকে পরিষেবা দিয়েছেন এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য গ্রামীণ এলাকায় টেলি-কার্ডিওলজি কর্মসূচি ছড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় গ্রামীণ প্রান্তিক মহিলাদের কাঁথা সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করে তুলেছেন, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরেও পৌঁছেছে। কৃতিদের এই জাতীয় স্বীকৃতি একদিকে যেমন রাজ্যের শিল্প, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানচর্চাকে অনুপ্রাণিত করবে, তেমনই তরুণ প্রজন্মের কাছে সমাজসেবা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।