ভারতের দুই ‘অস্তিত্বহীন’ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি, ফের হাসির খোরাক পাকিস্তান

ভারতের দুই ‘অস্তিত্বহীন’ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি, ফের হাসির খোরাক পাকিস্তান

নিজেদের তৈরি ‘ফাতাহ-১’ গাইডেড মাল্টি-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের চরম হাসির খোরাক হলো পাকিস্তান। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের ‘রাজৌরি বিমানঘাঁটি’ এবং পাঞ্জাবের ‘মামুন বিমানঘাঁটি’ রকেট হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা। অথচ বাস্তব তথ্য বলছে, ভারতের এই দুই জায়গায় নির্দিষ্ট নামে কোনো সক্রিয় সামরিক বিমানঘাঁটির অস্তিত্বই নেই। পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার এমন আজব দাবিতে নেটদুনিয়ায় এখন তীব্র বিদ্রূপের ঝড় বইছে।

অস্তিত্বহীন ঘাঁটিতে সফল হামলার হাস্যকর দাবি

সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি সাক্ষাৎকারে সে দেশের সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মুনিব জামাল দাবি করেন, ভারতের রাজৌরি ও মামুন বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করেছে তাদের বাহিনী। এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই শুরু হয় সমালোচনা। ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, রাজৌরি জম্মু ও কাশ্মীরের একটি জেলা এবং মামুন পাঞ্জাবের পাঠানকোটে অবস্থিত একটি সাধারণ সামরিক সেনানিবাস এলাকা। এই দুই জায়গার কোথাও ভারতীয় বিমানবাহিনীর কোনো সক্রিয় বিমানঘাঁটি নেই। অস্তিত্বহীন ঘাঁটিতে হামলার এই মনগড়া দাবি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করতে শুরু করেছেন। কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, হামলা এতই মারাত্মক ছিল যে মানচিত্র থেকেই ঘাঁটি দুটি গায়েব হয়ে গেছে, আবার কেউ ম্যাপের সাহায্যে এই কাল্পনিক ঘাঁটি খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্যর্থ সামরিক প্রচার ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নিজেদের সামরিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেই পাকিস্তান এই ধরনের কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন প্রচারণার আশ্রয় নিচ্ছে। ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’-এর অধীনে এর আগেও তারা উধমপুর, পাঠানকোট ও আদমপুর বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার দাবি করেছিল। কিন্তু ভারতের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানের এই আগ্রাসী কৌশল বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের হরিয়ানা, রাজস্থান কিংবা পাঞ্জাবের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামীণ মাঠ থেকে উদ্ধার হওয়া পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষই তার বড় প্রমাণ। ভারতের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন কাল্পনিক যুদ্ধ জয়ের এমন সস্তা গল্প তৈরি করছে পাকিস্তান, যা আন্তর্জাতিক মহলে তাদের সামরিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *