চিকেনস নেকের সুরক্ষায় শুভেন্দু সরকারের মাস্টারস্ট্রোক, চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

চিকেনস নেকের সুরক্ষায় শুভেন্দু সরকারের মাস্টারস্ট্রোক, চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

ভারতের ভৌগোলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদারে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এই করিডোরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে আটকে থাকা এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হতেই জাতীয় নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় একে একটি কৌশলগত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রতিবেশী চিনের উদ্বেগ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৌশলগত গুরুত্ব ও অনুপ্রবেশের আশঙ্কা

নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন পরিবেষ্টিত শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করতে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও বৈরী রাষ্ট্রগুলোর মূল লক্ষ্য এই চিকেনস নেক। তিনটি দেশের সীমান্ত এই অঞ্চলে মিশে থাকায় দীর্ঘকাল ধরে এখান থেকে অস্ত্র, মাদক ও জাল নোট পাচারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। ইতিপূর্বে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর ছক নস্যাৎ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে নামল বর্তমান রাজ্য সরকার।

সীমান্ত পরিকাঠামোয় গতি ও চিনের উপর চাপ

শুভেন্দু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত হবে। শুধু জমি হস্তান্তরই নয়, রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কও কেন্দ্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাসিমারা-জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত, বারাদিঘি-ময়নাগুড়ি-চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়কপথ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সড়কগুলোর আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হলে সীমান্ত এলাকায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ অত্যন্ত দ্রুত ও সহজ হবে। ডোকলাম বা সংলগ্ন সীমান্তে চিনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় ভারতীয় ফৌজ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কম সময়ে রসদ ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পৌঁছাতে পারবে। একই সঙ্গে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের যে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা নেবে। সব মিলিয়ে, চিকেনস নেকে ভারতের এই নতুন সামরিক ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি বেজিংয়ের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *