কলকাতা পুরসভার বুলডোজার-নোটিস, মাথা নত না করার হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নজিরবিহীন আক্রমণ অভিষেকের!
.jpeg.webp?w=948&resize=948,533&ssl=1)
রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ডেরায় কলকাতা পুরসভার জোড়া নোটিস। হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়িতে পুরসভার এই নোটিস পৌঁছানোর পর থেকেই পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই বুলডোজার চলার হুঁশিয়ারি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দলের বিধায়কদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “ওরা যা খুশি করুক। আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। আমি এসবের কাছে কোনও অবস্থাতেই মাথা নত করব না।” একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, এমন মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আগে কখনও দেখেনি।
১৭টি সম্পত্তি স্ক্যানারে, সাত দিনের ডেডলাইন
পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে অভিষেকের মোট ১৭টি সম্পত্তি তাঁদের নজরে রয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে ভবানীপুর এলাকার ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে পুরসভার নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, এই দুই ঠিকানার নির্মাণে মূল নকশার বাইরে গিয়ে বেশ কিছু ‘প্ল্যান-বহির্ভূত’ অংশ তৈরি করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সেই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় পুরসভাই বুলডোজার দিয়ে সেই অংশ গুঁড়িয়ে দেবে। ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়িটি অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে হলেও নথিতে সেটিকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বৈঠকে ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত ও বিদায়ী বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে নিজের অনড় মনোভাব স্পষ্ট করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতার নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এই বৈঠকে তিনি বিধায়কদের সামনে জানান, যা-ই হয়ে যাক না কেন, বিজেপির এই প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই চলতেই থাকবে। বৈঠকে শুধু পুরসভার নোটিস নিয়েই তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করেননি, নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। নারদ কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, রাজ্যে এর আগে অনেক মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও বর্তমান জনের মতো কুৎসিত মানসিকতার মানুষ কেউ ছিলেন না, যাকে প্রকাশ্য ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই বর্তমান সরকার যেভাবে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের নিশানা করে পুরসভার নোটিস পাঠাচ্ছে, তা এই সংঘাতের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো হলেও, তৃণমূল একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরসভার এই ‘বুলডোজার নীতি’র সামনে অভিষেক যেভাবে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মেজাজ দেখিয়েছেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আইনি লড়াই ও আন্দোলনের আবহ তৈরি হতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনগুলোর সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে।