ভোটের মুখে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে তাড়ানোর দাবি, মমতা, অভিষেকের সামনেই তৃণমূলের বৈঠকে তুমুল অশান্তি!

ভোটের মুখে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে তাড়ানোর দাবি, মমতা, অভিষেকের সামনেই তৃণমূলের বৈঠকে তুমুল অশান্তি!

ফলতার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের ময়দান থেকে তৃণমূল প্রার্থী তথা এলাকার দাপুটে নেতা ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গির খানের আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ শাসকদলের অন্দরের বৈঠক রীতিমতো অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুললেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। ভোটের মুখে প্রার্থীর এমন নাটকীয় সিদ্ধান্তে দলের অন্দরে যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নেতাদের আক্রমণাত্মক মেজাজেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বৈঠকে ক্ষোভের আগুন ও বহিষ্কারের দাবি

দলীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, ভোটের ঠিক মুখে ‘শান্তি রক্ষার’ দোহাই দিয়ে প্রার্থীর লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোকে চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে এই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা ও অভিষেককে উদ্দেশ্য করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানতে চান, দলের নির্দেশ অমান্য করে দলকে প্রকাশ্য বিড়ম্বনায় ফেলার অপরাধে কেন জাহাঙ্গির খানকে এখনও বহিষ্কার করা হচ্ছে না? ঋতব্রতর এই জোরালো সওয়ালকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বৈঠকে সরব হন সন্দীপন সাহাও। তিনি দ্রুত জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান, যার ফলে বৈঠকের পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ খোলেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাদের শান্ত করার চেষ্টা করে তিনি জানান, জাহাঙ্গিরের এই ধরণের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে, বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এক লাইনেই ক্ষুব্ধ নেতাদের শান্ত করে ইঙ্গিত দেন যে, দল ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। তিনি নেতাদের উদ্দেশ্যে কেবল বলেন, “ট্যুইট হয়েছে, দেখে নাও।”

ভোটের মাত্র দুদিন আগে এই ধরণের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ এবং প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো ফলতার নির্বাচনী সমীকরণকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। দল ইতিমধ্যে এক্স হ্যান্ডেলে জাহাঙ্গিরের বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, এই ঘটনা বিরোধী শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে এবং সাধারণ ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *