নবাব বংশের জিনে লুকিয়ে হার্টের রোগ, চিন্তিত সোহা আলি খানের সতর্কবার্তা

নবাব বংশের জিনে লুকিয়ে হার্টের রোগ, চিন্তিত সোহা আলি খানের সতর্কবার্তা

নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা নিয়ন্ত্রণে থাকা কোলেস্টেরল— আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ জীবনের জন্য এই উপাদানগুলিকেই যথেষ্ট মনে করা হয়। তবে এবার সেই চেনা ধারণায় বড়সড় ঝাঁকুনি দিলেন বলিউড অভিনেত্রী সোহা আলি খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন যে, রক্তের সমস্ত রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক এবং জিনগত কারণে হৃদ্‌রোগের এক বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন তিনি। সোহার এই স্বীকারোক্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদ্‌স্বাস্থ্য এবং বংশগত রোগ নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

৪৭ বছর বয়সী সোহা আলি খান জানান, তাঁর শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কম এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) যথেষ্ট ভালো মাত্রায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও জিনে লুকিয়ে থাকা এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁকে সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘জেনেটিক প্রিডিসপোজিশন’। অর্থাৎ, বাহ্যিক জীবনযাপন নিখুঁত হলেও বংশগত ইতিহাসের কারণে শরীরের ভেতরে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নীরবে দানা বাঁধতে পারে। নবাব বংশের এই উত্তরাধিকারীর এমন বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, শুধু ল্যাবরেটরির ভালো রিপোর্টই হৃদ্‌যন্ত্রের সম্পূর্ণ সুরক্ষার গ্যারান্টি হতে পারে না।

জেনেটিক ঝুঁকি ও জীবনযাত্রার প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারে যদি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ধরনের জিনগত জটিলতা যাঁদের থাকে, তাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কারণ সামান্য অসতর্কতাও ধমনীতে রক্ত চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এই জিনগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সোহা দীর্ঘ বছর ধরে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসে তিনি মূলত ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণ করেন, যা বিশ্বজুড়ে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখার জন্য সমাদৃত। এই তালিকায় থাকে প্রচুর পরিমাণে টাটকা ফল, শাকসবজি, দানাশস্য, অলিভ অয়েল এবং লিন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। রান্নার তেল নির্বাচন থেকে শুরু করে দৈনিক ওয়ার্কআউট— সব কিছুতেই কড়া নজরদারি বজায় রাখছেন এই অভিনেত্রী।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আগাম সতর্কতা

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদ্‌রোগ। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু ডায়েট বা জিম করলেই হবে না, প্রত্যেকেরই নিজের পারিবারিক রোগব্যাধির ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। জিনে ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত বিশেষ কিছু রক্তপরীক্ষা এবং স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ব্যবহার হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে। সোহার এই সচেতনতামূলক বার্তা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষকে বাহ্যিক ফিটনেসের পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠন সম্পর্কে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *