গরুর পিঠে হাত বোলালেই কমবে রক্তচাপ, ‘সোনার দুধের’ পর এবার দিলীপ ঘোষের নতুন দাওয়াই

বঙ্গ রাজনীতিতে তিনি মুখ খোলা মানেই নতুন কোনো চর্চা বা বিতর্কের সূত্রপাত। অতীতে ‘গরুর দুধে সোনা’ কিংবা করোনাকালে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ‘গোমূত্র’ ব্যবহারের তত্ত্ব দিয়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এবার এক নতুন দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন। বর্তমান রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত, প্রাণীসম্পদ ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, গোমাতাকে আদর করলে এবং তার পিঠে হাত বোলালে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার দ্রুত কমে যায়। মঙ্গলবার কাঁকুড়গাছির এক চা-চক্রে যোগ দিয়ে তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুরোনো বিতর্কের নতুন অধ্যায়
কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে আয়োজিত এই সভায় গোমাতার উপকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, গরুর গলকম্বল বা পিঠের কুঁজে হাত বোলালে রক্তচাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে এই ধরনের দাবি ভারতীয় রাজনীতিতে একেবারে প্রথম নয়। এর আগে উত্তর প্রদেশের কানহা গৌশালার উদ্বোধনে গিয়ে সে রাজ্যের মন্ত্রী সঞ্জয় সিং গাঙ্গওয়ারও দাবি করেছিলেন যে, দিনে দু’বার গরুর পিঠে হাত বোলালে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে রক্তচাপের ওষুধের মাত্রা অর্ধেক হয়ে যায়। এবার প্রায় একই সুরে সুর মেলালেন বাংলার ক্যাবিনেট মন্ত্রীও, যা তাঁর অতীতের গো-বিজ্ঞান সংক্রান্ত মন্তব্যগুলোর কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
কারণ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর চিরাচরিত নিজস্ব ঘরানার রাজনীতি এবং সনাতন সংস্কৃতির আবেগকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা। অতীতে রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন ২০১৯ সালে গরুর দুধে সোনা থাকার দাবি কিংবা মহামারী চলাকালীন গোমূত্রের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর মন্তব্য প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এবার প্রাণীসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর গোমাতার উপকারিতা নিয়ে এই ‘বিশেষজ্ঞ’ সুলভ মন্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের অবস্থানেই অনড়।
চিকিৎসক ও বিজ্ঞানমনস্ক মহলের মতে, এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক দাবি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা যদি আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ ছেড়ে কেবল গরুর পিঠে হাত বোলানোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড়সড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সরকারের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।