মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে বিজেপির ‘ধীরে চলো’ নীতি, বাজেট কি পেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু নিজেই

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আপাতত কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বরং ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি সামলানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এবং বাকি মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা ধাপে ধাপে এবং সময় নিয়েই সম্পন্ন করা হবে। এমনকি বিধানসভার একটি অধিবেশন পার হওয়ার পরেই মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে।
রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিল্লিতে একপ্রস্থ আলোচনা সেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দিল্লিতে এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে এখনই তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই। বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানেও সরকার গঠনের বহু মাস পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী মিলে প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজ দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন। সেই কারণেই আপাতত সীমিত মন্ত্রিসভা নিয়েই সরকার পরিচালনার পক্ষে সওয়াল করছে নেতৃত্বের একাংশ।
বাজেট ঘিরে জল্পনা এবং আর্থিক দায়িত্ব
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে কোনও পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমনন্ত্রী না থাকায় বিজেপির অন্দরমহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এবার রাজ্যের বাজেট পেশ করতে পারেন। যদিও দলীয় সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ভারসাম্য রক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এই বিলম্বের নেপথ্যে রয়েছে দলীয় সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার সুনিপুণ কৌশল। নতুন সরকারে কোন গোষ্ঠীকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক সমীকরণ কীভাবে মেলানো হবে, সেই হিসেব কষেই এগোতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে দলে ক্ষোভ বা অসন্তোষ তৈরি হতে পারে, যা নতুন সরকারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সব দিক খতিয়ে দেখে একটি নিখুঁত দল গঠনে আরও কিছুটা সময় নেওয়া হচ্ছে, যার কারণে বাংলার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা দেখতে সাধারণ মানুষকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।