তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রাক্তন বিধায়ক, ফরাক্কায় বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ

বঙ্গভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দলবদলের হাওয়ায় তোলপাড় রাজ্যের রাজনীতি। এবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। ভোটের টিকিট না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা এবার দলত্যাগের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিল। তৃণমূল ছাড়ার পরেই রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল এই প্রাক্তন বিধায়কের গলায়।
শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, “রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি, কাটমানি ও দাদাগিরির বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মুখ্যমন্ত্রী আগে থাকলে দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবাংলা তৈরি হতো।” তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও, খুব শীঘ্রই তিনি নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
টিকিট না পাওয়াই কি ক্ষোভের কারণ?
চলতি বছরের মার্চ মাসে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়কের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। একুশের নির্বাচনে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট না দিয়ে সামশেরগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করে। যদিও এই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী পরাজিত হন এবং ফরাক্কা আসনে জয়লাভ করেন কংগ্রেসের মোতাব শেখ।
এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে মনিরুল ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে তাঁকে কড়া বার্তা দিয়ে দল থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় কিছুটা নরম মনোভাব দেখালেও, অবশেষে রবিবার নিউ ফরাক্কায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দল ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন মনিরুল। তাঁর সাফ কথা, “আমি তৃণমূল দল ছাড়িনি, তৃণমূল দলই আমাকে ছেড়ে গিয়েছে। যে দলে আমার সম্মান নেই, সেখানে আমি আত্মসম্মান বলিদান দিয়ে থাকতে পারি না।”
নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক অভিযোগ করেন, দলে বর্তমানে একনায়কতন্ত্র ও জমিদারি প্রথা চলছে। টিকিট বণ্টন নিয়ে ছেলেখেলা করার কারণেই এবার দলের এই বিপর্যয় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। দলত্যাগের কারণ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে সিন্ডিকেটরাজ চলেছে এবং তাঁর অধীনে দলদাস হয়ে থাকা মনিরুলের পক্ষে সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় মনিরুল ইসলামের মতো চেনা মুখের দলত্যাগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে ফরাক্কা ও সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। অন্যদিকে, মনিরুল ইসলাম তাঁর অনুগামীদের নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলে সেই অঞ্চলে বিজেপির হাত আরও শক্ত হবে, যা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।