আইন ও আদালতের রায় মনে করিয়ে দিতেই নতুন বিজ্ঞপ্তি, পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাইয়ের আসল নিয়ম জেনে নিন

আইন ও আদালতের রায় মনে করিয়ে দিতেই নতুন বিজ্ঞপ্তি, পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাইয়ের আসল নিয়ম জেনে নিন

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পশু জবাই নিয়ে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি সরকারের কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নয়। ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ এবং পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রায় কঠোরভাবে অনুসরণের লক্ষ্যেই এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত জনমানসে সচেতনতা বাড়াতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মনে করাতেই এই উদ্যোগ।

আইনের মূল উদ্দেশ্য ও বিধিনিষেধ

পশুর দুধের জোগান বজায় রাখতে এবং কৃষিকাজে পশুর ব্যবহারে যাতে কোনো ঘাটতি না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালের এপ্রিলে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু প্রাণী জবাই করার আগে প্রশাসন ও পশুচিকিৎসা সংক্রান্ত শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ এবং মহিষের বাছুর।

তবে যেকোনো পশুকে চাইলেই জবাই করা যাবে না। আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটিকে প্রজনন বা কাজের ক্ষেত্রে অক্ষম হতে হবে। অথবা বয়স, আঘাত, বিকৃতি কিংবা কোনো রোগের কারণে স্থায়ীভাবে কাজ ও প্রজননের অনুপযুক্ত হলে তবেই জবাইয়ের অনুমতি মিলবে।

হাইকোর্টের নির্দেশ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

আইনটি পুরনো হলেও ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, বৈধ শংসাপত্র ছাড়া পশু জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানাতে পাবলিক নোটিস জারি করতে হবে। সেই নির্দেশ এবং ২০২২ সালের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার গত ১৩ মে ৮ দফার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

পেশাদার মহল মনে করছে, এই বিজ্ঞপ্তির ফলে রাজ্যে অবৈধ উপায়ে পশু জবাই এবং গবাদি পশুর চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকাজে পশুর ভারসাম্য বজায় থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তাই সাধারণ মানুষের এই নিয়মগুলো জেনে রাখা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *