আরজি কর কাণ্ডে কেন সিল করা হলো না বাকি জায়গা, হাইকোর্টে চরম অস্বস্তিতে সিবিআই

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়ায় ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির দরুন তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা এবং সিল না করা এলাকাগুলো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা। ঘটনার অকুস্থল ও তার আশেপাশের এলাকা সুরক্ষিত রাখা নিয়ে সিবিআই-এর আইনজীবীকে আদালতের একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, যা এই হাইপ্রোফাইল মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আদালতের তোপ ও তদন্তের ফাঁক
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় মূল সেমিনার রুম বাদে অন্য কোনো জায়গা সিল করা হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে জানান, শুধু সেমিনার রুমটিই সিল করা হয়েছে। এর পরেই বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, “তদন্তের সময় আপনার মনে হয়নি বাকি জায়গা সিলের প্রয়োজন আছে?” সিবিআই-এর আইনজীবী নিম্ন আদালতের দোহাই দিলে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নিম্ন আদালত সিবিআই-এর পেশ করা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই নির্দেশ দেয়। মামলাকারীর আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ আদালতে দাবি করেন, সেমিনার হলের বাইরে তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের নিজস্ব ঘরসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখনো সিল করা হয়নি, যা তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি ছিল।
সম্ভাব্য প্রভাব ও আগামী দিনের জলঘোলা
আইনজীবীদের একাংশের মতে, আরজি কর কাণ্ডের মতো সংবেদনশীল মামলায় অকুস্থলের পরিধি নিয়ে সিবিআই-এর এই অনমনীয় মনোভাব তদন্তের নিরপেক্ষতা ও গভীরতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করতে পারে। মামলাকারীর আইনজীবীর অভিযোগ অনুযায়ী, সিবিআই-এর জমা দেওয়া সিলবন্ধ রিপোর্টে নতুন কোনো তথ্য নেই, বরং পুরোনো কাজেরই খতিয়ান রয়েছে। হাইকোর্টের কড়া মনোভাবের কারণে সিবিআই এখন হাসপাতালের অন্যান্য সন্দেহভাজন অংশ সিল করতে বাধ্য হতে পারে। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবারের আবেদন মেনে আদালত যদি পুনরায় অকুস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেয়, তবে নতুন কোনো তথ্য বা তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা আগামী দিনে সিবিআই-এর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।