ডোমকলে তৃণমূলের মহাপ্রলয়, দলেরই সদস্যদের অনাস্থা ভোটে অপসারিত সভাপতি শাহানা বিশ্বাস
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/18/domkol-2026-05-18-14-27-14.jpg?w=1280&resize=1280,720&ssl=1)
মুর্শিদাবাদের ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এক বড়সড় ভাঙন ও রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটে গেল। দলেরই সদস্যদের একাংশের তীব্র বিদ্রোহের জেরে ক্ষমতা হারাতে হলো ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি শাহানা বিশ্বাসকে। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ব্লক প্রশাসনের উপস্থিতিতে আয়োজিত আস্থা ভোটে বিপুল ব্যবধানে হেরে পদ খোয়াতে হয়েছে এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রীকে। ডোমকল ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সমস্ত আইনি নিয়ম মেনে এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
২৭ সদস্যের ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতিতে ভোটাভুটির ফলাফল বিদায়ী সভাপতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক প্রমাণিত হয়েছে। আস্থা ভোটে শাহানা বিশ্বাসের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ৩টি, যেখানে তাঁর বিপক্ষ শিবিরের ঝুলিতে গিয়েছে ২৩টি ভোট। একজন সদস্য ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। ২৩-৩ ব্যবধানের এই বিপুল পরাজয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি পদ থেকে অপসারিত হন শাহানা বিশ্বাস। তবে নতুন সভাপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক নিয়ম মেনে তিনিই আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকছেন।
দুর্নীতির অভিযোগ বনাম চক্রান্তের পাল্টা দাবি
তৃণমূলের ক্ষুব্ধ ও অনাস্থায় অংশ নেওয়া সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফেরিঘাট বণ্টন-সহ পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজে চরম দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল সভাপতির বিরুদ্ধে। জনমানসে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই তাঁরা এই কঠোর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক অন্দরের খবর, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে পেছন থেকে বাম ও কংগ্রেসের সদস্যরাও প্রচ্ছন্ন সমর্থন জুগিয়েছেন।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অপসারিত সভাপতি শাহানা বিশ্বাস। তাঁর পাল্টা দাবি, তিনি কোনো অন্যায় বা দুর্নীতিতে সায় দেননি। মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেই দলের একাংশ চক্রান্ত করে তাঁকে অন্যায্যভাবে সরিয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পেছনে রাজ্যে সাম্প্রতিক ক্ষমতা বদলের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। নবান্নে নতুন সরকার গঠন করার পর থেকেই গ্রামীণ স্তরের পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলোতে তৃণমূলের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তাতে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। এতদিন দলের ভেতরে যে সমস্ত অসন্তোষ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব ক্ষমতার দাপটে চেপে রাখা হয়েছিল, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই তা এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে। ডোমকলের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে নিচুতলার সংগঠনে দলের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে, যা আগামী দিনে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যান্য পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ স্তরেও চেইন রিঅ্যাকশন বা একই ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।