লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বদলে এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, জুনেই কি তবে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের মহিলাদের জন্য এক বড়সড় আর্থিক উপহারের ঘোষণা করেছে নবনির্বাচিত সরকার। গত ১১ মে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই পূর্বতন সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প’ চালুর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তা মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (ডিবিটি) আর্থিক সহায়তা পাবেন। আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে এই বহুপ্রতীক্ষিত প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করতেই এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
কারা পাবেন এই সুবিধা এবং কীভাবে হবে আবেদন
নতুন সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তারা আগামী জুন মাস থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা পাবেন। তবে যারা অতীতে এই সুবিধা পাননি, তাদের সম্পূর্ণ নতুন উপায়ে আবেদন করতে হবে। সরকার খুব শীঘ্রই এর জন্য একটি নতুন ডেডিকেটেড পোর্টাল চালু করতে যাচ্ছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলা হতে হবে। তবে কোনো সরকারি বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।
প্রকল্পের সুবিধা পেতে ভোটার আইডি, স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণপত্র, আয়ের শংসাপত্র, রেশন কার্ড এবং আধার নম্বর বা আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রয়োজন হবে। অফিশিয়াল পোর্টাল চালু হলে উপভোক্তারা অনলাইনের মাধ্যমে ওটিপি ভেরিফিকেশন করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে আবেদন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নিকটবর্তী সরকারি ক্যাম্প, ব্লক অফিস বা পুরসভা থেকে অফলাইনে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক গুরুত্ব
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কোটি কোটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছাবে, যা গ্রামীণ ও প্রান্তিক অর্থনীতিতে চাহিদার গতি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকার এই নিশ্চিত অনুদান মহিলাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি স্বাধীন ও স্বাবলম্বী করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার এই বর্ধিত আর্থিক দায়ভার রাজ্যের কোষাগারের ওপর কেমন চাপ সৃষ্টি করে, তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে বর্তমানে দ্রুততার সাথে পোর্টাল তৈরি এবং আবেদন স্ক্রিনিংয়ের পরিকাঠামো গোছানোর কাজ চলছে, যাতে জুনের শুরু থেকেই সুবিধাভোগীদের কাছে টাকা পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়।