কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী সিইও, নবান্নের পাঠানো তিন নামের তালিকায় তুঙ্গে জল্পনা!

কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী সিইও, নবান্নের পাঠানো তিন নামের তালিকায় তুঙ্গে জল্পনা!

ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে। বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল একই সঙ্গে সিইও পদের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। তবে আগামী জুলাই মাসে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মনোজবাবুর অবসরের আগেই নির্বাচন পরিচালনার শীর্ষ পদে নতুন মুখ নিয়ে আসতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যেই তিনজন অভিজ্ঞ আইএএস অফিসারের নাম জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করে পাঠিয়েছে নবান্ন।

প্রস্তাবিত তালিকায় যে তিন অফিসারের নাম রয়েছে, তাঁরা হলেন নীলম মীনা, তন্ময় চক্রবর্তী এবং মৌমিতা গোদারা বসু। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের পাঠানো এই প্যানেল বা তালিকা থেকেই একজনকে পরবর্তী সিইও হিসেবে বেছে নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশন চাইলে এই তালিকা পছন্দ না হলে পুনরায় নতুন নাম পাঠানোর প্রস্তাবও দিতে পারে।

অভিজ্ঞতার ওজন ও নবান্নের কৌশল

নবান্নের পাঠানো এই তিন অফিসারেরই দীর্ঘ এবং দক্ষ প্রশাসনিক কাজের রেকর্ড রয়েছে। নীলম মীনা বর্তমানে রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে তন্ময় চক্রবর্তী শ্রম দপ্তরের অধীনস্থ ইএসআই প্রকল্পের ডিরেক্টর পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তালিকায় থাকা তৃতীয় নাম মৌমিতা গোদারা বসু স্বাস্থ্য দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনে কাজ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিচিত ও দক্ষ মুখ। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিন হেভিওয়েট অফিসারের নাম সুপারিশ করার পেছনে রাজ্যের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে, যাতে নির্বাচন কমিশন কোনো নামেই সহজে আপত্তি না তুলতে পারে।

প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিদায়ী সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সামগ্রিক নির্বাচন পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর এই সফল পারফরম্যান্সের পুরস্কারস্বরূপ তাঁকে পরবর্তীতে মুখ্যসচিবের মতো শীর্ষ পদে উন্নীত করা হয়। জুলাই মাসে তাঁর অবসরের পর রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থার রাশ কার হাতে যাবে, তার ওপর আগামী দিনের বহু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। নতুন সিইও নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে চাওয়ার মূল কারণ হলো প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। নতুন যিনিই দায়িত্ব নিন না কেন, তাঁর সামনে ভোটার তালিকার আধুনিকীকরণ এবং ভবিষ্যৎ উপ-নির্বাচন বা পুরভোটের প্রস্তুতি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার মতো বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে। কমিশনের সবুজ সংকেত পেলেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে বাংলার নির্বাচনী প্রশাসনের পরবর্তী অধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *