ব্যঙ্গের আড়ালে প্রতিবাদের ঝড়, সমাজমাধ্যমে সাড়া ফেলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’!

দেশে বেকারত্ব ও যুবসমাজের ক্ষোভ যখন বিভিন্ন স্তরে আছড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদের এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী ঝড় তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আপাতদৃষ্টিতে একে একটি ব্যঙ্গাত্মক বা প্রতীকী রাজনৈতিক দল মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বার্তা। মাত্র ৩ দিনে এই ভার্চুয়াল ফ্রন্টের সদস্য সংখ্যা ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যুবসমাজের মানসিকতার এক বড় প্রতিফলন।
প্রতিবাদের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক আদর্শ
এই অভিনব প্রতিবাদের নেপথ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। আদালতে শুনানির সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন এবং পেশাগতভাবে ব্যর্থ হয়ে তারা সাংবাদিক বা সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে অন্যদের আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। যুবসমাজের এই ক্ষোভকে এক সুতোয় বেঁধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ দীপক, যিনি আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছেন এবং পূর্বে আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যম শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সংগঠনটি নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং জওহরলাল নেহরুর আদর্শ অনুসরণের বার্তা দিয়ে এই দলে যোগ দেওয়ার জন্য বেকারত্ব, অলসতা, অনলাইনে বেশি সময় কাটানো এবং গঠনমূলক সমালোচনার ক্ষমতার মতো কিছু রসাত্মক শর্ত রাখা হয়েছে। তবে মজার ছলে তৈরি হলেও এই মঞ্চে ইতিমধ্যে মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদের মতো মূল ধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শামিল হয়েছেন।
ইস্তেহারে গভীর বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
দলটি একটি আনুষ্ঠানিক ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেশের সমসাময়িক জ্বলন্ত ইস্যুগুলো স্থান পেয়েছে। মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, দলবদলুদের নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা, অবসরের পর বিচারপতিদের রাজ্যসভায় মনোনয়ন বন্ধ করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। নিট কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব—সব বিষয়েই সোচ্চার হয়েছে এই ফ্রন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, যুবসমাজের এই উদ্যোগ অতি ক্ষুদ্র মনে হলেও বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য এটি মোটেও স্বস্তির বার্তা নয়। যে প্রতিবাদ দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দল বা সংবাদমাধ্যমের করার কথা ছিল, তা এখন ব্যঙ্গের মোড়কে সাধারণ তরুণরাই করছে। ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যুবসমাজের এই অভিনব প্রতিবাদের ভাষা আগামী দিনে দেশের মূলধারার রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।