বলিউডে কি এখনো কোণঠাসা দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ, ট্রেলার লঞ্চে অনুপস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

নিজের ছবির ট্রেলার লঞ্চের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেই অনুপস্থিত খোদ ছবির নায়ক। ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ম্যায় ওয়াপিস আউঙ্গা’র ঝলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের এই অনুপস্থিতি বিটাউনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শর্বরী ওয়াঘ, বেদাঙ্গ রায়না-সহ ছবির পুরো টিম উপস্থিত থাকলেও ‘পাঞ্জাবি পপস্টার’কে না দেখে চলচ্চিত্র মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
পুরনো বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞার ছায়া
বলিউডের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ কি এখনো অলিখিত নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে বন্দি? এর আগে ‘সর্দারজি ৩’ ছবিতে পাকিস্তানি শিল্পীদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নেয় যে, ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)-এর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে তাঁকে কোনো বলিউড ছবিতে না নেওয়ার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। যদিও এর মাঝে ‘বর্ডার ২’ ছবিতে তাঁর অভিনয়ের কথা জানা যায়, তবে সেটি আগেভাগে চুক্তিবদ্ধ থাকায় ছাড় পেয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দিলজিৎকে ঘিরে তৈরি হওয়া আপ-বিজেপি রাজনৈতিক তরজাও এই প্রচারানুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করেছে কিনা, তা নিয়েও ফিসফাস চলছে।
অভিযোগ উড়িয়ে দিলজিতের সাফাই
বিতর্ক যখন চরমে, তখন গুঞ্জনের আগুনে জল ঢালতে শেষমেশ নিজেই মুখ খুলেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বলিউডে কোণঠাসা হওয়া বা কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং পেশাগত ব্যস্ততার কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। বর্তমানে টেক্সাসে অবস্থান করছেন জানিয়ে অভিনেতা বলেন, সেখানে তাঁর রাতের শোয়ের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় জরুরি কাজ সামলাতে হচ্ছে। ছবির নাম মনে করিয়ে রসিকতার সুরে তিনি আরও জানান যে, তিনিও খুব শীঘ্রই ফিরে আসবেন।
ইমতিয়াজ-দিলজিৎ রসায়নে নতুন চমক
চলতি বছরের শুরুতেই পরিচালক ইমতিয়াজ আলি ও দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের নতুন প্রজেক্টের কথা সামনে এসেছিল। প্রেম, বিরহ এবং শিকড় সন্ধানের গল্প নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রে এ আর রহমানের সঙ্গীত এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। ছবির ট্রেলার ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা থাকলেও, মূল অভিনেতার অনুপস্থিতি এবং তাঁকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা বিতর্ক সিনেমার প্রচারপর্বে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণের জেরে একজন প্রথম সারির তারকার এভাবে কাঠগড়ায় ওঠা হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের অভ্যন্তরীণ জটিলতাকেই পুনরায় প্রকাশ্যে এনেছে।