গড়িয়া শ্মশানের শৌচাগারে উলঙ্গ শিশু মূর্তি নিয়ে তীব্র বিতর্ক, কুরুচির অভিযোগে সরব অগ্নিমিত্রা!

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশানের সামনে অবস্থিত একটি সাধারণ শৌচাগারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুপ্রেরণায়’ তৈরি এই শৌচাগারের সামনে বসানো চারটি উলঙ্গ শিশুর শৌচকর্মের মূর্তি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। জনসমক্ষে শিশুদের এমন নগ্ন মূর্তি স্থাপন কোন সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক তরজা ও রুচিবোধের প্রশ্ন
তৎকালীন বিদ্যুৎ, আবাসন, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উদ্বোধন করা এই শৌচাগারটি নিয়ে বর্তমান শাসক দল তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ঘটনায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় খোঁচা দিয়েছেন। মূর্তিগুলির নান্দনিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একে ‘নিম্নরুচির’ পরিচয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সুর শোনা গিয়েছে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের গলাতেও, যিনি এই ঘটনাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কুরুচির প্রমাণ বলে কটাক্ষ করেছেন।
তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিতর্কের জেরে সরকারি প্রকল্পের নান্দনিক দিক এবং তার পেছনে হওয়া খরচের হিসাব নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কোটি টাকা খরচ করে তৈরি এই পাবলিক টয়লেটের খরচের খতিয়ান খতিয়ে দেখতে এবার অডিট বা আর্থিক সমীক্ষা চালানো হবে। কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা এই অডিটের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে। বিতর্কিত এই মূর্তিগুলি শেষ পর্যন্ত সাধারণ শৌচাগারের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।